সুপারি ব্যবসায়ীদের শুকনো মুখ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সুপারি ব্যবসায়ীদের শুকনো মুখ 

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৮ ১৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৬:০৬ ১৪ অক্টোবর ২০২১

সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা।

সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা।

উপকূলীয় বরগুনায় এ বছর সুপারির ফলন কম হয়েছে। গত বছরের কার্তিক থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অনাবৃষ্টি থাকায় সুপারির ফলন কমে গেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া দ্রব্যমূল্যের বর্তমান দাম অনুযায়ী সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ফুল পাকাপোক্ত সুপারিতে পরিণত হয়। মূলত কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাসই সুপারির ভরা মৌসুম। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ ভাগ নদী-নালা, খাল-ডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ ভাগ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। জেলায় এ বছর ১ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে মোট ৫০১৯.২৫ মেট্রিকটন সুপারির উৎপাদন হয়েছে।

সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলছে সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট ব্যবসা। স্থানীয় বাজার থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে পাইকারি ও আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারগুলোতে এক কুড়ি সুপারি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো সুপারি সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বাগান মালিকরা জানান, আগে জেলার প্রত্যেক বাজারে বিক্রির জন্য প্রচুর সুপারি আসত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে কিনে ৬০ শতাংশ পানিভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রাখতেন এবং ৪০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন কম হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে এবছর দামও আশানুরূপ নেই।

সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা।

বরগুনা বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী কাশেম হাওলাদার, মহিউদ্দিন ও আবদুর রশিদ বলেন, এ বছর সুপারির ফলন কম এবং বাজার দরও গত বছরের তুলনায় কম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রশীদ বলেন, এ বছর অনাবৃষ্টি ছিলো। জেলার বেশিরভাগ সুপারি বাগানের মালিকরাই নির্দিষ্ট দূরত্বে সুপারি গাছ রোপণ করেনি। তাছাড়া সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ করতে না পারার কারণেও সুপারির ফলন আশানুরূপ পায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে