‘চ্যানেল ফি’ ছাড়া সেবা মিলে না পাসপোর্ট অফিসে 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘চ্যানেল ফি’ ছাড়া সেবা মিলে না পাসপোর্ট অফিসে 

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪১ ১৪ অক্টোবর ২০২১  

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফেনী

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফেনী

‘পাসপোর্ট ফি ব্যতিত অতিরিক্ত টাকা কাউকে প্রদান করবেন না। দালাল প্রতারক হতে সাবধান’ এমন কয়েকটি প্রচারণা দেয়ালে সাঁটানো থাকলেও বাস্তবতা ব্যতিক্রম। ‘চ্যানেল ফি’ ছাড়া সেবা মিলে না বললেই চলে।

নিয়মানুযায়ী সেবা পেতে দালাল চক্র বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেনী শহরের মহিপাল সার্কিট হাউজ সড়কের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এ চিত্র নিত্যদিনের। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একই কাজে দিনের পর দিন অফিসে ধরনা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। চ্যানেল ফি এর নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা না পেলেই অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলাও দায় তাদের। শুধু তাই নয় নির্ধারিত ট্রাভেল এজেন্সির সিল না থাকলে আবেদন গ্রহণও করা হয় না। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নতুন এবং পাসপোর্ট সংশোধন করতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন তারা।

কথা হয় সেবা নিতে আসা সোনাগাজীর বাসিন্দা কলেজ ছাত্র শফি উল্যাহর সঙ্গে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রবাসে পাড়ি জমাতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। চলতি বছরের গত ১৭ জুন ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন জমা দেন। ৮ জুলাই পাসপোর্ট প্রদানের তারিখ থাকলেও তিন মাস পর্যন্ত তার পাসপোর্ট হাতে পাননি। কিছুদিন পরপর তিনি পাসপোর্ট এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে ফিরে যান।

শুধু শফিউল্যাহ নয় এমন অনেকে পাসপোর্টের জন্য ধরনা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানাভাবে হয়রানি করে ফিরিয়ে দেন। মনোয়ারা বেগম, শাহ আকবর, আরাফাত হোসাইন শিমুলসহ ডজনখানেক সেবাগ্রহীতা তাদের হয়রানির তথ্য জানান।

একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, পাসপোর্টের জন্য ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন জমা না দিলে গ্রহণ করা হয় না। কিছু আবেদন জমা নিলেও নানা অজুহাতে হয়রানি এমনকি তা ফেরত দেয়া হয়। এছাড়া অফিসের প্রবেশের সময় আনসার সদস্যরা প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা টাকা না পেলে তারা অনেককে প্রবেশই করতে দেননা।

পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, ৪৮ পৃষ্ঠা পাসপোর্টের ৫ বছর মেয়াদে নিয়মিত ৪ হাজার ২৫, জরুরি ৬ হাজার ৩২৫, অতীব জরুরি ৮ হাজার ৬২৫, ১০ মেয়াদে নিয়মিত ৫ হাজার ৭৫০, জরুরি ৮ হাজার ৫০ ও অতীব জরুরি ১০ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হওয়ার পর নতুন-পুরোনো বিদেশগামীদের সংখ্যা অধিক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে আবেদন জমা দিতে কিংবা ছবি তুলতে আসা ব্যক্তিদের সারি দীর্ঘ হয়ে কখনো কখনো সড়ক পর্যন্ত পৌছে যায়। গত ১ আগস্ট থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ হাজার ৫১৭টি পাসপোর্ট ছাপা হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৫টি পাসপোর্ট বিভিন্ন জটিলতায় আটকে রয়েছে।

জানতে চাইলে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পাসপোর্ট অফিসে আসা ব্যক্তিদের সেবা দিতে তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। সার্ভার সমস্যা এমনকি প্রিন্ট হতে দেরি হওয়ায় পাসপোর্ট পেতেও দেরি হয় বলে তার দাবি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও এর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধূরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সংযুক্ত সহকারি পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানকে লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে পরিচালক সাধন সাহাকে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক পদে নিযুক্ত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে