করোনার উৎসের খোঁজে ডব্লিউএইচও’র শেষ চেষ্টা

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনার উৎসের খোঁজে ডব্লিউএইচও’র শেষ চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ১৪ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে নতুন এক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আর এ উদ্যোগ ভাইরাসটির উৎসের সন্ধান পাওয়ার শেষ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়েন্টিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন দ্য অরিজিন্স অফ নভেল প্যাথোজেন্স (সাগো) নামের ওই দলে ২৬ জন বিশেষজ্ঞকে মনোনীত করেছে ডব্লিউএইচও।

উহানে প্রায় দুই বছর আগে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে করোনার উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর এক বিশেষজ্ঞদল প্রথমবারের মতো চীনে যায়।

চার সপ্তাহ চীনে অবস্থানের পর মার্চে করোনার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১৭ বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাব থেকে করোনা ছড়িয়েছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। মধ্যবর্তী প্রাণী বাহকের মাধ্যমে এটি মানবদেহে ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।

ওই প্রতিবেদনকে সে সময় ‘অসম্পূর্ণ’ উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়াসহ ১৪টি দেশ।

বিবৃতিটিতে বলা হয়, করোনার উৎস ও কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে, এসব বিষয় নিয়ে ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানানোও জরুরি। সার্স-কোভ-২-এর উৎস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত এবং প্রতিবেদনে মৌলিক ডাটা ও নমুনার অভাব রয়েছে।

প্রথম বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, চীন সঠিকভাবে তথ্য না দেয়ায় এবং এ বিষয়ে দেশটির স্বচ্ছতার অভাব থাকায় ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞদল কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।

চীনের উহান শহরের সামুদ্রিক খাবারের বাজারে প্রাণী থেকে মানবদেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে নাকি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাকালে দুর্ঘটনাবশত এটি ছড়িয়ে পড়ে, তা জানতে নবগঠিত বিশেষজ্ঞ দলটি কাজ করবে।

ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় দুর্ঘটনাবশত করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বরাবরই তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন।

চলতি বছরের মে মাসে করোনার উৎসসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাপায় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহার ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির তিন গবেষক অসুস্থ হন। হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীনও ছিলেন

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির তিন গবেষক অসুস্থ হন। হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীনও ছিলেন।

এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই করোনার উৎস আরো গভীরভাবে অনুসন্ধানে জোর দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

করোনার উৎস অনুসন্ধান ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকির রোগজীবাণুর উৎস নিয়েও কাজ করবে নতুন গঠিত বিশেষজ্ঞদল সাগো।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস বলেন, নতুন রোগজীবাণুর উৎস জানা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব।

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সের যৌথ সম্পাদকীয়তে টেড্রোস ও ডব্লিউএইচওর অন্য কর্মকর্তারা বলেন, ল্যাবে দুর্ঘটনা থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বাদ দেয়া যায় না।

ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, করোনার উৎস সম্পর্কে জানতে এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ।

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লাড ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা হাজার হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। করোনা মহামারি শুরুর প্রথম কয়েক মাসে ওই সব রক্ত ব্লাড ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপরই ডব্লিউএইচও ওই বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে।

ডব্লিউএইচওর এ তৎপরতার বিষয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা রাষ্ট্রদূত চেন শি বলেন, সাগোর কর্মকাণ্ড ঘিরে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদলকে এবার অন্য জায়গায় পাঠানো উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ