নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা-১৭ ধান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা-১৭ ধান

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২০ ১৩ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বল্প মেয়াদী জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় কৃষকদের বিনা-১৭ জাতের ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে।

বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীন সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়। ধান কাটার পর একই জমিতে রবিশস্য সরিষা/মসুর/আলু/মুগ ও তিল চাষ করা যাবে। পরে ওই জমিতে বোরো ধান লাগানো যাবে। 

মাঠ দিবসে কৃষক ইব্রাহিম খলিল জমির ২০ বর্গফুট ধান কর্তন করে ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম ধান পাওয়া যায়।

শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ওষুধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপণ করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুণাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমিতে একসঙ্গে লাগিয়ে তারটা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভালো। আর আমারটা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশস্য রোপণ করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করব।  

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম