ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিনেমা শিল্প

ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিনেমা শিল্প

ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৪ ১৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:২৬ ১৩ অক্টোবর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের সিনেমা শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ১ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ফান্ড থেকে সিনেপ্লেক্স ও অন্য হলমালিকরা স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ করতে পারবেন। পারবেন হলগুলোকেও আধুনিকায়ন করতেও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিনেমাশিল্প যেন সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় ও স্থানীয় মানুষ যেন বিনোদনের সুযোগ পায়। সে চিন্তা থেকেই আমরা ১ হাজার কোটি টাকার ফান্ড করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়াও, বর্তমান সরকারের আমলে সিনেমা আর্কাইভ ভবন তৈরি করে পুরনো সিনেমাগুলোকে নতুনভাবে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তৈরী করা হচ্ছে দক্ষ শিল্পী ও কলাকুশলি।

চলচ্চিত্র শিল্পকে সম্প্রসারণ, সুদৃঢ় করাসহ বিএফডিসিকে আর্থিক স্বনির্ভরকরণ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন, বিএফডিসি’র মধ্যে বহুমুখী বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য মন্ত্রনালয়। বিভিন্ন বাণিজ্যিক এবং কারিগরি সুবিধা সংযোজনপূর্বক বিনোদনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী আয়ের ক্ষেত্র সৃষ্টির মাধ্যমে বিএফডিসি তথ্য চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক হবে এই কমপ্লেক্স। বিনিয়োগ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএফডিসিকে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে পরামর্শক নিয়োগ, ৪৫ হাজার ৮০২ বর্গমিটার মূলভবন ও চারটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ, ৪টি সিনেমা প্রদর্শন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাসহ এতে নির্মিত হবে ৭৩ হাজার বর্গমিটারের বিশাল শুটিং ফ্লোর।

মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অনুদানের প্রথা চালু করে। কয়েকবছর বন্ধ থাকার পর ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে নিয়মিতভাবেই অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। 

চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩টি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক, ২টি শিশুতোষসহ ১৭ টি চলচ্চিত্রকে অনুদান দেয়া হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে চলচ্চিত্রশিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যার কারণে এ শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যমান আওতার অধিক সংখ্যক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে অনুদানের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

বছর বছর বেড়েছে অনুদানে পরিমাণ ও নিয়ম নীতিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সিনেমা নির্মাণে অনিয়ম। ২০১০ সাল থেকে অনুদানের অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩৫ লাখ টাকা। সঙ্গে ১০ লাখ টাকার কারিগরি সুবিধা। নীতিমালায় বলা আছে, প্রথম চেক প্রাপ্তির ৯ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। তবে বিশেষ অবস্থায় অনুরোধ সাপেক্ষে পরিচালক ওই সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।

এ বিশেষ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই অনেক নির্মাতা ছবি নির্মাণে বছরের পর বছর পার করছেন। মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশের কারণে তারা এ ধরনের কাজ করেও কোন ধরণের জবাবদিহিতা ছাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে অনুদান দেয়া হয়েছে ৭৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে। তার মধ্যে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ২৫টি চলচ্চিত্র, মুক্তি পায়নি ৪৯টি। যা সরকারি অনুদান তো বটেই, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য খুবই হতাশাজনক।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রশিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন করেছে বাংলাদেশ সরকার। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার অসচ্ছল শিল্পীকে মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ অনুদান খাত থেকে নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাতা বাড়ানোর দাবি করে আসছেন শিল্পী-সংস্কৃতিজনরা, সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বস্ত করা হয়েছে ভাতার পরিমাণ শীঘ্রই ২০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হবে।

এছাড়াও বন্ধ সিনেমা হল চালু, সংস্কার ও নতুন হল তৈরির জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস