গ্রামে-গ্রামে জ্বলছে সিইআরের সৌর বিদ্যুতের আলো 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রামে-গ্রামে জ্বলছে সিইআরের সৌর বিদ্যুতের আলো 

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৮ ১২ অক্টোবর ২০২১  

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলীর বিভিন্ন গ্রামে জ্বলছে সৌর বিদ্যুতের আলো। সন্ধ্যা হলেই এ ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক দোকানে ও বাড়িতে জ্বলতে শুরু করে আলো। ২০১৪ সাল থেকে ইডকলের সহায়তায় এ ইউনিয়নে সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশী-ফতেহপুর গ্রামে ১৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার বাংলাবাজার, মাস্টারহাট ও আশপাশের এলাকায় ১৭৭ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। ফলে ৬৬১ জন গ্রাহকের বাড়ি, দোকান ও দুটি বাজার আলোকিত হবে, একটি বরফ কল চলবে। এছাড়াও মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহীর গ্রামে চালু আছে এসব প্রকল্প। 

নবায়নযোগ্য ও টেকসই জালানি গবেষণার জন্য ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু সেন্টার ফর অ্যানার্জি রিসার্চের (সিইআর)। এর উদ্দেশ্য জালানি ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা গঠন এবং এর যথাযোগ্য ব্যবহারের উপায় নিয়ে গবেষণা করা। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেড়কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জালানি ও জলবায়ু মোকাবিলায় ৫০টি প্রকল্প পরিচালনা করা হয়েছে গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ সোলার হোম সিস্টেমের বাতি, চার্জার, এসি-ডিসি কনভার্টার ও ব্যাটারি পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয় ল্যাবে। এছাড়া দেড় হাজার প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সোলার প্রযুক্তি ওপর।

সিইআর এর পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। ‘স্মার্ট ভিলেজ ন্যানোগ্রিড’ নামের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। একটি ‘সোলবক্স মিটার’ তৈরি করেছেন। এ মিটার দিয়ে  সৌরবিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারবে গ্রাহকরা। এই দুটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেই ২০১৭ সালের জুনে সোলারের নোবেল জার্মানির ‘ইন্টার সোলার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। জাতিসংঘের ২২তম জলবায়ু সম্মেলনে ‘মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর ‘পিয়ার-টু-পিয়ার স্মার্ট ভিলেজ গ্রিড’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প মরক্কোতে জাতিসংঘের ২২ তম জলবায়ু সম্মেলনে ‘ইউএন মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৬ সালের জুন ২২-২৪ জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারসোলার অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ জিতেছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনজি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে আন্তঃবিশ্ববদ্যিালয় প্রতিযোগিতা। সেখানে ইউআইইউর ‘অটোমটেডে ইরিগেশন সিস্টেম ইয়ুথ র্স্মাট মনিটরিং’ প্রকল্প ‘অদম্য বাংলাদেশ -২০১৬’ পুরস্কার অর্জন করে। ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ জুলাই মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত ৭ম ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেসে শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী অর্জন করেন ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেসের  সম্মানজনক ‘ এডুকেশনাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’।  

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সব কাজ থেমে যেত। তারা বাড়িতে চলে যেত। এখন সেখানে গেলে দেখবেন, আমার প্রকল্পের মাধ্যমে সব জায়গায় আলো জ্বলছে। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত মানুষ বাজারে আছেন, দোকানে বিক্রি হচ্ছে। নতুন ব্যবসা গড়ে উঠছে। অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে। এটুকুই চেয়েছিলাম আমি—মানুষের জীবনমান যেন বদলে যায়, তারা যাতে আলোকিত জীবনযাপন করতে পারে।’

তার সঙ্গে সহকারী গবেষক হিসেবে কাজ করেন সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্র। ইইইর সাবেক ছাত্র রাশেদুল হাসান তৈরি করেছেন ‘নেট মিটারিং’ নামের একটি ডিভাইস। বিদ্যুৎ অফিসে স্থাপন করা হবে এই ডিভাইস। সংযোগ দেয়া বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটির অবস্থান ডিভাইসের জিপিএস জানিয়ে দেবে। এছাড়াও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের খবর পৌছে দেবে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে।  আরেক গবেষক আরিফুর রহমান সৌরচালিত সোলার স্টোভ উদ্ভাবন করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম