কানাডার জনপ্রিয় বৃত্তি ভেনিয়ার গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কানাডার জনপ্রিয় বৃত্তি ভেনিয়ার গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ১২ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভেনিয়ার কানাডা গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ। কানাডার সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি বৃত্তি। দেশটিতে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের নাগরিকত্বও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কানাডা সরকারও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরণের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। 

আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কানাডায় পড়ালেখা করার সুযোগ করে দিতেই কানাডার সরকার এ বৃত্তি দিয়ে থাকে। হেলথ রিসার্চ, ন্যাচারাল সাইন্স রিসার্চ, ইঞ্জিনিয়ারিং সাইন্স রিসার্চ, সোশ্যাল সাইন্স রিসার্চ ও হিউমানিটি রিসার্চ এর উপর পিএইচডি করা যাবে এ স্কলারশিপের আওতায়। আবেদন করা যাবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশসহ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ৪৩ লাখ টাকা পাবেন। প্রতিবছর মোট ১৬৬ টি বৃত্তি দেয়া হয়। বৃত্তির মেয়াদ তিন বছর।

সুবিধাসমূহ

* যে কোন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
* এই স্কলারশিপের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে ৫০ হাজার ডলার দেওয়া হবে। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা।

আবেদনের যোগ্যতা

* প্রথমে কানাডিয়ান কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে।
* সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
* ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ এর কোটা আছে কানাডার এমন একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা মনোনীত হতে হবে।
* রিসার্চ এবিলিটি (জার্নাল, পাবলিকেশন) থাকতে হবে।
* ইংরেজী ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর দেখাতে হবে।
* কমিউনিকেশন ও লিডারশিপ দক্ষতা থাকতে হবে।
* আবেদনকারীদের অবশ্যই পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য অন্য কোনও পুরষ্কার, বৃত্তি বা তহবিল গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের প্রক্রিয়া বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। https://vanier.gc.ca/en/home-accueil.html

পড়াশোনার ভাষা : ইংরেজি ও ফরাসি দুটি ভাষাতেই কানাডার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করা যায়। তবে যে ভাষায় পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক সে ব্যাপারে আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভাষায় যথেষ্ট দক্ষতাও থাকতে হবে। ভর্তির শুরুতেই ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়া লাগে। যেমন:  অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL এ ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় নূন্যতম ৭৯ পেতে হয়। তবে ১০০-এর বেশি নম্বর পেলে ভালো। এছাড়া বিজনেসের শিক্ষার্থীদের GMAT টেস্টে ভালো স্কোর পেতে হয়।

শিক্ষাব্যবস্থা : কানাডায় একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলে দুভাবে পড়াশোনা করতে পারে। ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পড়াশোনায় এখানে রয়েছে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল, পিএইচডি কোর্স। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও রয়েছে কো-অপারেটিভ এডুকেশন, ডিসট্যান্ট লার্নিং, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো আরও অনেক কোর্স ও পদ্ধতি। এখানে শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা রয়েছে এবং আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে।

যে বিষয়ে পড়া যায় : কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফুড সায়েন্স, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, এগ্রিকালচার, ইকোনোমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনোমিক্স, মিউজিক, ফিলোসফি, হিস্ট্রি অ্যান্ড রিলিজিওন, ইংলিশ, ল, থিয়েটারসহ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার বিষয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয় পড়তে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম