চরাঞ্চলে ভূমিদস্যুদের থাবা, মৎস্যজীবী-খামারিদের মানবেতর জীবনযাপন

ঢাকা, বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১৩ ১৪২৮,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চরাঞ্চলে ভূমিদস্যুদের থাবা, মৎস্যজীবী-খামারিদের মানবেতর জীবনযাপন

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২১ ১২ অক্টোবর ২০২১  

বড় ফেনী নদীর তীরে জেগে ওঠা চর

বড় ফেনী নদীর তীরে জেগে ওঠা চর

বড় ফেনী নদীর উপকণ্ঠে সোনাগাজী উপজেলার চরাঞ্চলে থাবা বসিয়েছে ভূমি দস্যুরা। সেখানে চলছে খাস জমি দখলের মহোৎসব। গত দুই বছরে নদীর তীরে জেগে ওঠা প্রায় ১০ হাজার একর চর দখলে নিয়েছে তারা। এসব চরে উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার মৎস্যজীবী ও খামারিদের জীবিকা ছিল। চরগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দখলকৃত চরে মাছ ধরতে কিংবা গবাদি পশু নিয়ে গেলে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হয় মৎস্যজীবী-খামারিরা। ভূমিদস্যুদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় চরে টং ঘর বানিয়ে রাতে নিয়মিত মাদকের আসর বসায়। দুর্গম এসব চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত কম থাকায় দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যু ও তাদের সন্ত্রাসীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১২ সাল থেকে বাঁকা নদী সোজাকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে চর আবদুল্লাহ, চর এলেন, আবুইল্লার চর, থাক খোয়াজের লামছি ও নূনার চরে প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে চর জেগে ওঠে। সিন্ডিকেটের মাধমে চলছে এসব চর দখল বাণিজ্য। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার একর জমি দখলে চলে গেছে।

৯ বছরে বড় ফেনী নদীর তীরে জেগে উঠেছে ৩০ হাজার একর চর

আবুইল্লাহর চরে দখল সিন্ডিকেটে রয়েছে- চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবুল হাশেম, শেখ ফরিদ, করিমুল হক ও হেলাল উদ্দিন গং। থাক খোয়াজের লামছি দখল সিন্ডিকেটে রয়েছে- শাহ আলম, মাছ কাদের, হুমায়ূন কবির, ফজলুল করিম, আনিছুল হক, জসিম উদ্দিন ও মিয়াধন গং। চর চলেন দখল সিন্ডিকেটে রয়েছে- গোলাম সারোয়ার, গিয়াস উদ্দিন, আবুল বশর ও মোশারফ হোসেন গং। চর নাসরিন ও নূনার চর দখল সিন্ডিকেটে রয়েছে- সবুজ, নুরুল করিম, নিজাম উদ্দিন, শেখ ফরিদ, আবুল হাসেম, মিজানুর রহমান, নুরুল আবছার, আহমেদ করিম গং।

মৎস্যজীবী আবুল কাশেম বেল্টু অভিযোগ করেন, তিনিসহ শত শত জেলে চরাঞ্চলে জমিতে জাল বসিয়ে সামু্দ্রিক মাছ ধরে সোনাগাজীর হাটে-বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু ভূমি দস্যু সিন্ডিকেট হাজার হাজার একর জমি দখলে করেছে। জাল নিয়ে গেলেই প্রতিনিয়ত মারধরের শিকার হতে হয় তাদের।

এরই মধ্যে চরের ১০ হাজার একর জমি দখল করেছে ভূমিদস্যুরা

ভূমি দস্যুদের হামলা ও হয়ারানি থেকে বাঁচতে মৎস্যজীবীরা গণস্বাক্ষর করে গত ১১ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ভূমিদস্যু ও তাদের সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১০ অক্টোবর আবুইল্লার চর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে মহিষের খামারী ইমাম হোসেনকে অপহরণ ও মারধর করেছে চিহ্নিত চাঁদাবাজ করিমুল হক ও তার ভাড়াটে লোকজন। ঐ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ইমাম হোসেন।

এ বিষয়ে ইউএনও এ.এম জহিরুল হায়াত জানান, মৎস্যজীবীদের লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়ে ওইদিনই আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। 

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে অভিযোগটির তদন্ত শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবী ও খামারিরা হামলার শিকার হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর