জৌলুস ফিরেছে রাবির নবাব আব্দুল লতিফ হলে

ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জৌলুস ফিরেছে রাবির নবাব আব্দুল লতিফ হলে

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ১২ অক্টোবর ২০২১  

জরাজীর্ণ লতিফ হল ফিরে পেয়েছে নবাবী জৌলুস

জরাজীর্ণ লতিফ হল ফিরে পেয়েছে নবাবী জৌলুস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সবচেয়ে পুরানো আবাসিক হলগুলোর মধ্যে নবাব আব্দুল লতিফ হল অন্যতম। ১৯৬৫ সালে হলটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯২ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলে গোটা হল। সে সময় পুরোপুরি ড্যাম হয়ে যায় হলটি। পরে সাধারণ চুনকাম করে হলটিতে থাকার উপযোগী করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তেমন কোনো সংস্কার কাজ হয়নি হলটিতে। বাইরে-ভেতর জীর্ণ দশা। মাঝেমধ্যেই ছাদের পলেস্তারার ভেঙে পড়ে। এভাবে আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই থাকে শিক্ষার্থীরা।

২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর হলটির প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা সংস্কার, নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে পাল্টে দিয়েছেন হলের চিত্র। তার সময়ে হলে আনুমানিক প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যা পাল্টে দিয়েছে এই হলের পুরনো দৃশ্যপট। জরাজীর্ণ লতিফ হল ফিরে পেয়েছে নবাবী জৌলুস। যেনো নবাব ফিরে পেয়েছে তার পুরনো গৌরব।

১৯৯২ সালের পর প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে হলের ছাদের পলেস্তারার ভেঙ্গে পরেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলের তৃতীয় তলা। কোনো রকম সংস্কার করে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মাঝে মধ্যে পলেস্তরা খসে পড়ে আহত হতো শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও হলের ডাইনিং রুমের পলেস্তরা খসে মাথায় পড়ে মারাত্মক আহত হন এক কর্মচারী। তার মাথায় দিতে হয় পাঁচটি সেলাই।

প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একরাম হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু করেন নানা সংস্কার কাজ। তার দায়িত্বকালে তৃতীয় তলার দুটি ব্লকের পুরনো ছাদ ফেলে দিয়ে নতুন করে করা হয়েছে। এছাড়াও আগে হলে কোনো ক্যান্টিন ছিলো নতুন করে একটি ক্যান্টিন, হল মসজিদে টাইলস বসানো, বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণ করেছেন। ডাইনিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য রিডিং রুমের কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুবিধা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাইরে থেকে পুরো হলকে ওয়েদার কোর্টের রঙ লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও ভেতরে হলের ক্যান্টিন, মসজিদ, বঙ্গবন্ধু কর্ণারের কাজ শেষ হয়েছে। রিডিং রুম, ডাইনিং, নবাব আব্দুল লতিফের প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও হলের বিভিন্ন রুমের পুরানো দরজা, জানালা সরিয়ে নতুন করে লাগানো হচ্ছে। হলের ভেতরের দেয়াল রঙ করছে মিস্ত্রীরা।

হলে ঘুরতে আসেন আবাসিক শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, এমনও হয়েছে রাতে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ করে ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে মশারির উপর। এছাড়াও বিভিন্ন সময় হলের বারান্দা, ওয়াশ রুমের ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তো। স্যার হলের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন তলার উত্তর ও পূর্ব ব্লকের ছাদ সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নতুন করে করেছেন। আমরা এতদিন আতঙ্ক নিয়ে থাকতাম। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে আতঙ্ক ছাড়াই হলে থাকতে পারবো।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন বলেন, যখন হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন হলের অবস্থা ছিলো খুব শোচনীয়। চেষ্টা করেছি আস্তে আস্তে হলের অবস্থা পরিবর্তনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো তিন তলার ছাদ ফেলে দিয়ে নতুন করে করা। দুটি ব্লকের পুরনো ছাদ ফেলে দিয়ে নতুন করে করা হয়েছে। আরো নানা রকম কাজ এখনে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হলে কোনো ক্যান্টিন ছিলো না। নতুন করে একটি অত্যাধুনিক ক্যান্টিন করা হয়েছে। এছাড়াও হল মসজিদ পুরোটাই টাইলস করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য একটি রিডিং রুম করা হচ্ছে। এখানে ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী পড়তে পারবে। রিডিং রুমে থাকবে এসি, পাশেই করা হবে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধার জন্য আরো একটি কক্ষ।

লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ আরো বলেন, আগামী মাসে আমার দায়িত্বের মেয়াদকাল শেষ হবে। কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। আমি সেগুলো শুরু করে যাওয়ার চেষ্টা করবো। পরবর্তীতে যিনি দায়িত্বে আসবেন তিনি সেগুলো শেষ করবেন আশা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আবাসিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীরা সবসময় কাজে সহযোগিতা করেছে, ফলে আমার কাজগুলো করতে সহজ হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম