অনুষদে সেরা হাবিপ্রবির বাবর, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক 

ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনুষদে সেরা হাবিপ্রবির বাবর, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক 

মিরাজুল আল মিশকাত, হাবিপ্রবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৪ ১২ অক্টোবর ২০২১  

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বাবর আহমদ।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বাবর আহমদ।

বাবর আহমদ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস অনুষদে সেরা হয়েছেন। পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। 

তার জন্ম ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি রংপুর শহরে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াহেদ ও গৃহিণী মা নুরজাহান বেগমের একমাত্র সন্তান। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় কুড়িগ্রামের শিশু নিকেতন স্কুলে। 

২০০৫ সাল। হিসাবরক্ষক পদে বাবার বদলি হয়েছে রংপুর ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে’ (বিসিক)। এরইসঙ্গে বাবরের স্কুলও বদলাতে হয়েছে। তাকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় রাইফেলস পাবলিক স্কুলে। আর এখান থেকেই এসএসসিতে জিপিএ ৪.৯৪ পাওয়ার পাশাপাশি দিনাজপুর বোর্ডে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন। একাদশ-দ্বাদশে মানবিক বিভাগে পড়েছেন রংপুর সরকারি কলেজে। ২০১৩ সালে এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৫.০০। পেয়েছেন দিনাজপুর বোর্ডে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। 

স্বপ্নের শুরু

বাবরের স্বপ্নের শুরু চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান শামিমের কাছেই। তিনিই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তবে উচ্চশিক্ষা অর্জনে তার বাবার ইচ্ছে ছিলো রংপুরের আশেপাশের কোনো ভালো প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাবরের ইচ্ছে ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়ার। প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তেমনই। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাবিতে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু বাবার কারণে ভর্তি হওয়া যায়নি। 

এ বছর অভিমানে বাবর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। এরপর তার বাবা নিজের ভুল বুঝতে পারেন। পরের বছর থেকে ছেলেকে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেন। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাধা হয়ে দাঁড়ালো বাবা। সেশনজটের কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। পছন্দের বিষয় অর্থনীতি থাকায় হাবিপ্রবিতে  ভর্তি হয়ে যান। 

লেখাপড়ার কলাকৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে বাবর বলেন, লেখাপড়ার ক্ষেত্রে পরিশ্রম ও আল্লাহর রহমতে  বিশ্বাসী। ছোট থেকেই আম্মুর বানানো হ্যান্ডনোট পড়তাম। বড় হওয়ার পরও এই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারিনি। নিয়মিত প্রতিটি বিষয়ের লেকচারই বুঝে বুঝে নিজের ভাষায় নোট করতাম এবং পরে তা পড়তাম। 

ভালো ফলাফলের রহস্য: বাবার দেখানো পথে না হাঁটলে আজ এতোদূর আসা হতো না। তিনি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, দিয়েছেন সৎ উপদেশ এবং সর্বদা শিখিয়েছিলেন ‘There is no shorcut to be succeeded and you have to be industrious with adequate patience’. 

ক্যাম্পাস জীবন

ক্যাম্পাসে অধিকাংশ সময়ই চার বন্ধু (সৈকত, শিশির, আরিফ ও আমি) একসঙ্গে কাটিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটময় মুহূর্তের কথা বলতে গেলে তৃতীয় সেমিস্টারের কথা বলতে হয়। কারণ ঐ সময় আমার রেজাল্ট খারাপ হয়। যে কারণে পরবর্তী সেমিস্টারগুলোতে ৩.৮৫’র বেশি পেতে হতো ডিপার্টমেন্ট ১ম হওয়ার জন্য। 

বর্তমানে আমি হাজী মোহাম্মদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত। এছাড়া অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী স্যারের সঙ্গে দুটি প্রজেক্টে কাজ করেছি।

অনুজদের উদ্দেশে: অনুজদের বলবো ভালো ফলাফল করতে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। এর সঙ্গে প্রতিটি লেকচার ক্লাসে ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং পরবর্তীতে নিজের ভাষায় তা নোট করতে পারলে আরো ভালো হয়। আর সবাইকে অর্থনীতির মূল বিষয়গুলো (Basic Concepts) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে। অনেকেই বলবে সিজিপিএ কিছুই না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এটিও একটি অর্জন এবং একাডেমিক জ্ঞান  তাদের গবেষণার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা করতে চাই। এছাড়া বিদেশে গিয়ে পিএইচডি ও পোস্ট ডক করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম