প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনোই অন্য ধর্মকে অসম্মান করেন না

ঢাকা, বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১৩ ১৪২৮,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনোই অন্য ধর্মকে অসম্মান করেন না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৮ ১২ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৯:১৪ ১২ অক্টোবর ২০২১

ভোলা জেলা প্রশাসন সভাকক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার আওতায় ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান - বাসস

ভোলা জেলা প্রশাসন সভাকক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার আওতায় ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান - বাসস

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনোই অন্য ধর্মকে অসম্মান করেন না। প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট তার ধর্ম পবিত্র।

সোমবার ভোলা জেলা প্রশাসন সভাকক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার আওতায় ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। এদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সমাজের দুষ্টচক্র অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে। ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে কেউ যেন সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে দল, মত, ধর্ম নির্বিশেষে জনগণকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার বৃহত্তর ধর্মীয় জনগোষ্ঠী মুসলমানদের কল্যাণে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান সরকার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী মূলধন ২১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। এই প্রথম ‘সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ২৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সারাদেশে মোট ২৩৫১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫৪৭টি মন্দিরের নির্মাণকাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কর্মসূচির অধীনে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১৯৮টি মঠ/মন্দির/শ্মশান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উন্নয়নে আরো ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ব্যক্তিদের কল্যাণে পর্যাপ্ত অনুদান সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মন্দির ও প্যাগোডা ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় লাখ লাখ শিশুকে নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক -ই-লাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার আহমদ, ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দিন, জেলার প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি, ইমাম সমিতি, আলিয়া মাদরাসা, কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন পরিষদের ভোলা শাখার প্রতিনিধিরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এইচএন