আদালত চত্বরেই ৩ নারীকে মারধর, এগিয়ে আসেনি কেউ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৩ রজব ১৪৪২

আদালত চত্বরেই ৩ নারীকে মারধর, এগিয়ে আসেনি কেউ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:২৯ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আহত নারীকে ভ্যানে তুলছে পুলিশ

আহত নারীকে ভ্যানে তুলছে পুলিশ

পঞ্চগড়ে আদালত চত্বরেই তিন নারী ও এক প্রতিবন্ধী শিশুকে মারধর করেছেন আসামিপক্ষের লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট বানিয়াপাড়ার মকছেদুর রহমানের স্ত্রী আজিমা খাতুন, তার প্রতিবন্ধী মেয়ে মারিয়া শেখ, মা সকিনা বেগম ও খালা আরজিনা বেগম।

জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ির গাছের ডালপালা কাটা নিয়ে মকছেদুর রহমান ও প্রতিবেশী আজিরত ইসলামের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মকছেদুরের পরিবারের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি আজিরতসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মকছেদুর।

ওই মামলায় মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান আসামিরা। কিন্তু আজিরত ও রয়েলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এছাড়া বাকিদের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

আদালত চত্বরে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি

আদালত প্রধান দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আসামিপক্ষের লোকজন। এ সময় বাদীপক্ষের তিন নারী ও এক শিশুকে মারধর করেন আসামিপক্ষের আনোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী শ্রুতি বেগম ও বোন রুবিনা খাতুন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আহতরা।

এদিকে, আহতরা দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় আসামি পক্ষের রুবিনা খাতুনকে আটক করে পুলিশ। তবে বাকিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে।

আহত আজিমা খাতুন বলেন, মামলার শুনানি থাকায় আমরা আদালতে উপস্থিত ছিলাম। আদালত প্রধান দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করার পর আমরা ভবন থেকে বের হচ্ছিলাম। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন আমাদের টেনেহিঁচড়ে আদালত চত্বরে নিয়ে সবার সামনেই মারধর করেন। এমনকি আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটিকেও ছাড়েননি। আমরা চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পঞ্চগড় আদালতের পরিদর্শক মকবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর