আন্দোলন নয়, সমঝোতা চায় ববির শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

আন্দোলন নয়, সমঝোতা চায় ববির শিক্ষার্থীরা

ববি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৭ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় নিজ সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ভিসি ড. ছাদেকুল আরেফিন

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় নিজ সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ভিসি ড. ছাদেকুল আরেফিন

আন্দোলন থেকে সরে সমঝোতার পথে হাঁটলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী অমিত হাসান রক্তিম। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করতে চাইনি। দাবি আদায় করতে চেয়েছি। দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন ভিসি।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় নিজ সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ভিসি ড. ছাদেকুল আরেফিন। এ সময় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ভিসিকে প্রস্তাব দেয় শিক্ষার্থীরা। 


অমিত হাসান রক্তিম বলেন, আমরাতো কখনোই আন্দোলন চাইনি। আমরা চেয়েছি দাবি আদায় করতে। শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি করেছেন সেসব দাবি পূরণ করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর যেন বাস মালিক-শ্রমিকরা নির্যাতন না করেন সেটার লিখিত দিতে হবে, রূপাতলী হাউজিং কমিটি সেখানে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপনকে বয়কট করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ছিনতাই হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ ফেরত দিতে হবে এবং মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে মামলায় কাওছার হোসেন শিপনকে অর্ন্তভুক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি। 

অমিত হাসান বলেন, আন্দোলনের চেয়ে সমঝোতাই ভালো।

বৈঠক শেষে ভিসি ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, হামলায় জড়িতদের বিচার চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। সমঝোতা চেয়েছে তারা। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ সবার সঙ্গে আলোচনায় বসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেব আমরা। তবে শুরুতে শিক্ষার্থীদের মারধরের বিচার চেয়ে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অনেক শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ দুটি বৈঠকে দেখা যায়নি। 

প্রথম দিকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কারো বিরোধ নেই। তারা চেয়েছেন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা বিচার পাক। কারণ বিগত দিনেও পরিবহন শ্রমিকদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এরই মধ্যে কেউ কেউ হামলায় জড়িতদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। সেজন্য আন্দোলন থেকে সরে গেছেন তারা। এদিকে মঙ্গলবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পরীক্ষা হবে না বলে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে সাত দিন ধরে মহাসড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অবরোধ স্থগিত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিআরটিসি বাসের হেলপারের সঙ্গে হাতাহাতি হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর। ওই দিন রাতে নগরের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেস থেকে বের করে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। রাতেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপনের নেতৃত্বে তাদের মারধর করা হয়েছে। মারধরে জড়িতদের নামে মামলা, গ্রেফতার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ তিন দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। 

আন্দোলনের মুখে দুই শ্রমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও গ্রেফতার দুই শ্রমিক হামলায় জড়িত ছিলেন না বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে গ্রেফতার দুই শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট ডাকেন শ্রমিকরা। শিক্ষার্থীদের অবরোধ শ্রমিকদের ধর্মঘটে ভোগিন্তিতে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলবাসী। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ধর্মঘট স্থগিত করেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। মঙ্গলবার শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেন শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম