চিঠির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মায়াচিত্রের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ 

ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৩ রজব ১৪৪২

চিঠির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মায়াচিত্রের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:২৯ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন নেছা তন্নি। 

ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন নেছা তন্নি। 

যান্ত্রিক শহরে অনেকেই মিস করেন কয়েক দশক আগের ঐতিহ্যকে। সিনেমা কিংবা নানা গল্পে চিঠিতে প্রেমের গল্প, দূর-প্রবাসে থেকে মা-বাবার চিঠির অপেক্ষা। চিঠি পেয়ে সেটির আবার উত্তর পাঠানো। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি আর ভাষায় প্রকাশ না করতে পারা এক মায়া। চিঠি লিখে অপর পাশ থেকে উত্তর পাবার অধীর আগ্রহের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য। এসব কথা চিন্তা করলে হঠাৎই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে নব্বইয়ের দশকে। মনে হয় সেই সোনালি অতীত যদি আবার হাতছানি দিতো! 

হারানো সেই সোনালী অতীত ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন নেছা তন্নি। 

হঠাৎই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে নব্বইয়ের দশকে

মানুষকে চিঠি লেখায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ শুরু করেছেন সুন্দর চিঠির কাগজ ও খাম বানানোর উপর। চিঠির প্রতি যাতে পুরোনো আবেগ ফিরে আসে সে লক্ষ্যে মায়াচিত্র নামে একটি পেইজের (https://www.facebook.com/mayachitra/) মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

নগর জীবনের যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির এই যুগে চোখ বন্ধ করে সেই সময়টায় কথা মনে করলে অজান্তেই দু’ফোটা পানি বেড়িয়ে আসে চোখের কোণ থেকে। সুন্দর সেই অতীতে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। 

চিঠি লেখার এই কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারার বিষয়কে অত্যন্ত আনন্দের অনুভূতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসাগুলোর লেনদেনের অংশীদার হওয়া সত্যিই অনেক সৌভাগ্যের। 

 চিঠি লেখার এই ঐতিহ্য পুনর্জন্ম লাভ করুক সেই প্রত্যাশা উদ্যোক্তাদের

উদ্যোগের বিষয়ে তন্নী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ যুগে মানুষ তো আর চিঠি লিখে না, তাই আমরা এটা নিয়ে ও কাজ করি যাতে মানুষ একটু লিখে। দুই কাজিন মিলে এই উদ্যোগ নেয় তারা। চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা পোস্ট করে আমাদের ফেসবুক পেইজে। 

চিঠি লেখার কাগজগুলো কিনে আনলেও খামগুলো নিজেদের হাতেই তৈরি করেন তারা। একসময় চা ঢেলে কিংবা সাইডগুলো আগুনে পুড়িয়ে চিঠি লেখার অদ্ভুত কাগজ বানানোর চেষ্টা করত তারা।আর এখন সেই ধরণের ছাপার কাগজ ই তারা সরবরাহ করে। তাদের এই কাগজ যাতে সবাই সহজে পেতে পারে তার জন্য নামে মাত্র দামও নির্ধারণ করে তারা। প্রতিটি চিঠি লেখার পাতা ৩ টাকা এবং প্রতিটি খাম ৮ টাকা মূল্যে পৌঁছে দেন গ্রাহকের কাছে৷ লাভের দিকে মনোযোগ না দিয়ে শখ পূরণের কথাই ভাবছেন তারা। 

মেহেরুন নেছা জানান, চিঠির কাগজ কিংবা খাম জিনিসটা তো আবেগ না থাকলে কেনার চিন্তাই আসে না। বেশিরভাগ মানুষ অনেক এক্সাইটমেন্ট নিয়ে আর আগ্রহ নিয়ে আমাদের কাছে অর্ডার করে আর হাতে পাওয়ার পর অনেক খুশি হয় এবং প্রচুর রিভিউও আছে। 

তারা বিভিন্ন বিখ্যাত গান কিংবা মানুষের পছন্দের থিমে করা হ্যান্ডপেইন্টেড ব্যাগ তৈরি করে

সময়ের অভাবে হয়তো অনেকে কাগজ অর্ডার করে ওখান থেকেই চিঠি পোস্ট করে দিতে চান। তাই চিঠির কাগজের সাথে সাথে এখান থেকেই চিঠি লিখে পাঠানোরও একটি সুযোগ রেখেছেন তারা। সেক্ষেত্রে যিনি চিঠি পাঠাতে চান তিনি তার চিঠিতে কি লিখবেন সেটি পাঠিয়ে দেয় তাদের কাছে। 

উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার এই পর্যায়ে এই আধুনিকতার যুগে মানুষ সত্যি চিঠি লিখছে এটাই অনেক আনন্দ দিচ্ছে উদ্যোক্তাদের। আগামী দিনগুলোতে চিঠি লেখার এই ঐতিহ্য পুনর্জন্ম লাভ করুক সেই প্রত্যাশা তাদের। 

চিঠির কাগজ ও খামের পাশাপাশি সারাদিনের সব কাজের বর্ণনা লিখে রাখতে তৈরি করে দৃষ্টিকাড়া নোটবুকের। ছোট হওয়ায় যেটি বহন করা যায় অনায়াসেই। এছাড়াও তারা বিভিন্ন বিখ্যাত গান কিংবা মানুষের পছন্দের থিমে করা হ্যান্ডপেইন্টেড ব্যাগ তৈরি করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম