মাতৃভাষার ইতিহাস জানাতে শিশুদের নিয়ে এসেছি

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

মাতৃভাষার ইতিহাস জানাতে শিশুদের নিয়ে এসেছি

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:২৬ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্দেশ্যে অভিভাবকের সঙ্গে যাচ্ছে শিশুরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্দেশ্যে অভিভাবকের সঙ্গে যাচ্ছে শিশুরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে জীবন দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর, জব্বারসহ বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। সেই ভাষার জন্য ত্যাগের ইতিহাস এবং ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিশুদের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এনেছেন অভিভাবকরা। শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিহাসের নানা পাঠ তুলে ধরছেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসা শিশুদের হাতে ফুলে তোড়া রয়েছে। শিশুদের গালে শোভা পাচ্ছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশ ফেব্রুয়ারি’, কেউ আবার মাথায় ফুলের তোরা গেঁথে আনন্দের সঙ্গে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুদের ঢল

মেয়ে সমিউর নাইমাকে সঙ্গে করে শহিদ মিনারে এনেছেন ঢাকার লাগবাগের বাসিন্দা লুৎফর রহমান। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস ও ভাষা শহিদদের ইতিহাস মেয়েকে জানানো দরকার। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মেয়েকে শহিদ মিনারে এনেছি। গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি জেনে ভবিষ্যতে দেশপ্রেম ধারণ সহজ হবে।   

তিনি আরো বলেন, মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য সব শিশুকে শহিদ মিনারে নিয়ে আসা প্রয়োজন। 

ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ছেলে তাওহিদ ও নমিউল্লাহকে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসেছেন ধানমন্ডির শংকর এলাকার বাসিন্দা ওয়ালিউল্লাহ।

ওয়ালিউল্লাহ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনার মধ্যে ছেলেদের নিয়ে বাসায় থেকে তেমন বের হই না। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের আসলাম। খুব ভালো লাগছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাসের কথা নতুন প্রজন্ম জানে না। এসব দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে এলে ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাদের বাড়বে। 

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শিশুরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন- ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

শিশু রাব্বি ও তাহমিনাকে শহিদ মিনারে নিয়ে এসেছেন শনির আখড়ার বাসিন্দা মা জিয়াসমিন। তিনি বলেন, সন্তানদের ভাষার ত্যাগের সঠিক ইতিহাস জানাতে পারলে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠবে। আগামীর বাংলাদেশটা এই নতুন প্রজন্মের হাতে। তাই তাদের স্বাধীনতার ইতিহাস জানাতে হবে। প্রতিটা বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের ভাষা শহিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো।

মাতৃভাষা রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে জীবন দেন রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর, জব্বারসহ বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। তাদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে এসেছিল বাংলা ভাষার স্বীকৃতি ও সম্মান। আর তারই সিঁড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এমকেএ