নবীনগরে চাঁদা না দেয়ায় প্রকাশ্যে গুলি, সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২১ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

নবীনগরে চাঁদা না দেয়ায় প্রকাশ্যে গুলি, সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৯ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:০৯ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গ্রেফতারকৃত সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন রাজু

গ্রেফতারকৃত সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন রাজু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে এক ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর পুলিশ সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন রাজুকে গ্রেফতার করেছে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও নবীনগর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি নবীনগরের নরসিংহপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি নবীনগর সদরের পদ্মপাড়ায় বসবাস করেন।

নবীনগর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার সন্ধ্যায় তাকে নবীনগর বাজার থেকে গ্রেফতার করেন। নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অ্যাডিশনাল এসপি মকবুল হোসেন রোববার সকালে তার গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, নবীনগর বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী মার্সেল এক্সক্লুসিভের ডিলার রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গত বছরের ১২ মে সন্ধ্যায় মাস্কপরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চায়। কিন্তু দাবিকৃত ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী রফিককে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পৌর শহরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যবসায়ী রফিক জুয়েল, ইয়াছিন ও আলাল নামের তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পরদিন অ্যাডিশনাল এসপি মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য মোহন মিয়ার ছেলে সাদেকুল ইসলামের ঘর থেকে ৪৭ রাউন্ড গুলিসহ সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত আলোচিত সেই অত্যাধুনিক রিভালবারটি উদ্ধার করে।

কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি আগেই টের পেয়ে সাদেকুল পালিয়ে যান। তবে গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বহুল আলোচিত সেই সাদেকুলও। এর আগে এ মামলার আসামি ইয়াছিন ও আলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা এখন জেল হাজতে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি পুলিশের খাতায় থাকা 'মোস্ট ওয়ান্টেড' জুয়েলকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করা এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নবীনগর থানার এসআই মিশন বিশ্বাস বলেন, এ মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইকবালকে গ্রেফতার করেছি। এ ইকবালই এ ঘটনার 'নাটের গুরু' বলে বিভিন্ন তথ্যে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে এসআই মিশন বিশ্বাস বলেন, ছাত্রদলের এই নেতাকে আজ আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আশা করছি, তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পরই আমরা প্রধান আসামি জুয়েলকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পারবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এইচএন