শহীদ মিনার নেই পীরগাছার শতাধিক বিদ্যালয়ে

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

শহীদ মিনার নেই পীরগাছার শতাধিক বিদ্যালয়ে

ফজলুর রহমান, পীরগাছা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৮ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

পীরগাছার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

পীরগাছার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

রংপুরের পীরগাছার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ২১ ফেব্রুয়ারি এলে আশপাশের কোনো শহীদ মিনারে যেতে হয় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। অনেকে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

জানা গেছে, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭৮টি, মাদরাসা ৩৬টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫৩টি ও কলেজ ১৭টি। এর মধ্যে পশ্চিমদেবু, অন্নদানগর, সাতদরগা, নাছুমামুদ, অনন্তরাম, তাম্বুলপুর, দুড়াগাড়ি, নেকমামুদ, দুধিয়াবাড়ী, চণ্ডিপুর, পবিত্রঝাড়, তালুক ইশাদ, ব্রাহ্ম্ণীকুণ্ডা, কালীগঞ্জ, মমিন বাজার, তালুক ইশাদ ফকিরটারি সরকারি, ধনীর বাজার, রাজবাড়ী, নেকমামুদ বালিকা, পবিত্রঝাড়, পীরগাছা বালিকা বিদ্যালয়সহ প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। প্রায় প্রতিটি শহীদ মিনার ধুলায় মলিন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একেবারে করুণ অবস্থা চরছাওলা কামারের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি। এটির বেদিতে ফাটল ও ছত্রাক জন্মেছে।

বড়দরগা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম খোকন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। পাশের একটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। সেখানে গিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানান তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহীদ মিনার স্থাপন প্রয়োজন। সরকারিভাবে আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পীরগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজামান মণ্ডল বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অংশ নেই।

পীরগাছা বহুভাষী সাঁটলিপি একাডেমির অধ্যক্ষ এমদাদুল হক বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে চাহিদা দেয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলায় ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ না থাকায় বাকি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সুজা বলেন, শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা দিবসটি যথাযথভাবে পালন করতে পারে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর