সৌদি আরবে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

ঢাকা, সোমবার   ২৭ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬,   ২১ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

সৌদি আরবে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

 প্রকাশিত: ১২:৪৩ ১৭ জুন ২০১৩  

প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে গতকাল শনিবার সৌদি আরবে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ নিজে তাঁকে রাজধানী রিয়াদে স্বাগত জানান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও হাত মেলান বাদশাহ। নিজ দেশে চরম রাজনৈতিক চাপে পড়া এই সফরকে ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নয় দিনের এই সফরে ট্রাম্প সৌদি আরবের পর ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বেলজিয়াম, ভ্যাটিকান এবং সিসিলিতে যাবেন। সৌদি সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছেন তাঁর মেয়ে ইভানকা ও তাঁর স্বামী হোয়াইট হাউসের অবৈতনিক পরামর্শক জ্যারেড কুশনার। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল সম্প্রতি সৌদি সফরে গিয়ে ইসলামি প্রথা অনুযায়ী যেরকম মাথা ঢাকা পোশাক পরেছিলেন, মেলানিয়া ও ইভানকা তা করেননি। বলা হচ্ছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চাইতে ট্রাম্পকে বেশি আড়ম্বরের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। ট্রাম্প এবং বাদশাহ সালমানকে পারস্পরিক আলাপচারিতায় বেশ স্বচ্ছন্দ মনে হয়েছে, যদিও তাঁরা দোভাষীর সহায়তা নিয়েছেন। শাহী আল-ইয়ামামা প্রাসাদে বাদশাহ নিজে ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বাদশাহ আবদুল আজিজ পদকে ভূষিত করেন। বাদশাহ নিজের টুইটারে ট্রাম্পের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আপনার সফরে আমাদের কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার হবে এবং তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।’ এই সফরে ট্রাম্প রিয়াদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় অঙ্কের চুক্তি সম্পাদন করবেন। আজ রোববার তিনি সৌদি রাজধানীতে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং ইসলামের একটি শান্তিপূর্ণ রূপরেখার ব্যাপারে নিজের আশাবাদ সম্পর্কে বলবেন। সহযোগীরা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেবে এবং শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবে। যুক্তরাজ্যের দি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা লিখেছে, এই বিশেষ বক্তৃতায় ট্রাম্প আরব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাবেন, তাঁরা যেন নিজেদের ইবাদতের স্থান থেকে সন্ত্রাসীদের তাড়িয়ে দেন। ট্রাম্পের ভাষণের খসড়ার অংশবিশেষ এ রকম: ‘এটা একটা লড়াই—মানবজীবনের বিনাশ ঘটাচ্ছে এবং এর সুরক্ষা দিতে চাইছে এ দুই পক্ষের মধ্যে।’ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ইসলামি জঙ্গিবাদ দমন এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। সৌদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গতকাল সকালে বলেন, তাঁরা ১১টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করবেন। সৌদি অর্থনীতিকে তেল সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনতে এসব চুক্তি সহায়ক হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলেছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ১০ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে। এটা একটা রেকর্ড অঙ্কের অস্ত্র ক্রয় চুক্তি।
Best Electronics