ক্ষান্ত হননি প্রেমকান্ত, প্রেমিকাকে পেতে গেলেন হাইকোর্টে

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ক্ষান্ত হননি প্রেমকান্ত, প্রেমিকাকে পেতে গেলেন হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৭ ১১ আগস্ট ২০২২  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

মারধর ও অপমানের পরও ক্ষান্ত হননি প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা ভারতের তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত। প্রেমিকাকে পেতে পরামর্শের জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন হাইকোর্টের। আইনি পরামর্শের জন্য তিনি হাইকোর্টে আসেন বলে জানান দুই আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা নিপার চেম্বারে সে আইনি পরামর্শ করেন পেমকান্ত।

পরে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা নিপা বলেন, প্রেমকান্ত আমাদের কাছে আইনি পরামর্শের জন্য এসেছিলেন। আমরা মনে করি তিনি বিদেশি নাগরিক হলেও বাংলাদেশে তার আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে।

গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশে আসেন প্রেমকান্ত। বরিশালের একটি রেস্তোরাঁয় প্রেমিকার সঙ্গে দেখাও হয় তার। প্রেমিকার সঙ্গে গাড়িতে বসে খারাপ আচরণ করায় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা সেটি সমাধানের চেষ্টা চালায়। প্রেমকান্তকে অটো থেকে নামানোর চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় প্রেমকান্তের। স্থানীয়রা তাকে থানায় হস্তান্তর করলে আত্মরক্ষার্থে মিথ্যার আশ্রয় নেন প্রেমকান্ত। অভিযোগ তোলেন মারধর, টাকা ও মোবাইল নিয়ে যাওয়ার। প্রেমকান্তের এসব অভিযোগ অসত্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ হালদার বলেন, প্রেমকান্তের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমরা দেখেছি। কিন্তু তদন্তে তার করা অভিযোগুলো অসত্য বলে উঠে এসেছে।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম হলে ২৪ জুলাই প্রেমকান্ত বরিশালে চলে আসেন। ২৫ জুলাই একটি রেস্তোরাঁয় প্রেমিকা তার তিন বান্ধবীসহ দেখা করে দুপুরের খাওয়া শেষে চলে যায়। এরপর প্রেমকান্তের অনুরোধে ২৭ তারিখ কাশিপুর এলাকায় দেখা করে। সেখানে অটোরিকশার মধ্যে প্রেমকান্ত ওই প্রেমিকাকে খারাপ সর্ম্পক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে তার সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। প্রেমকান্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে দুজনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারাত্মক রূপ নেয়। তাদের বহনকারী গাড়িটি থামিয়ে স্থানীয়রা বাগবিতণ্ডা বন্ধ করে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে (বিমানবন্দর থানায়) জানায়। সেখান থেকে পুলিশ এসে প্রেমকান্তকে হেফাজতে নেয়।

প্রেমিকার বাবা বলেন, আমার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক তা এয়ারপোর্ট থানার ওসি নিজে কলেজে এসে নিশ্চিত হয়ে গেছেন। বিষয়টি হাই কমিশনে জানালে, হাই কমিশন ওই যুবককে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সে দেশে না ফিরে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, আমার পরিবার নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালিয়ে যায়। ফলে আমি আমার পরিবার নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকব, তা নিয়ে ঝুঁকিতে আছি। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওই যুবকের মিথ্যা তথ্যে আমরা মারাত্মক ক্ষতিতে রয়েছি।

বরগুনার তালতলী থানার ওসি আলী আহম্মদ বলেন, ভারতীয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও তাকে চাপ সৃষ্টি করে নিয়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গত ৬ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে বরগুনার খাজুরতলা বাস টার্মিনাল থেকে একটি বাসে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রেমকান্ত।

তামিলনাড়ুর এ যুবক বরগুনা ছেড়ে যাচ্ছেন শুনে খাজুরতলা বাস টার্মিনালে ভিড় করেন অনেকে। এ সময় তিনি সবাইকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে দেখতে আসা লোকজনদের উদ্দেশ্যে বাংলায় বলেন, ‘ভালো থেকো বরগুনা, ভালো থেকো বাংলাদেশ’।

প্রেমকান্ত দাবি করেন, প্রেমিকা তাকেই ভালোবাসে। তা না হলে তাকে বরিশাল আসতে বলতো না। দেখা হলে আবারো তার জীবনে ফিরে আসবে সে।

প্রেমকান্ত বলেন, প্রেমিকার বাড়ি খুঁজতে সুদূর বরিশাল থেকে রওনা হই। বরগুনার তালতলী উপজেলার ডাকবাংলাতে উঠি, বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি তার বাড়িতে তালা বদ্ধ। যেহেতু তাকে আমি ভালোবাসি ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য এত দূরে এসেও তার দেখা পাইনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে এসেছিলাম। দেখাও হয়েছিল। তবে কী কারণে তার পরিবার ও সে আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়নি, বিষয়টি আমার অজানাই থেকে গেল। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভুলতে কষ্ট হবে। তবু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করব। অনেক পথ পেরিয়ে কষ্ট করে এসেছি। প্রেমিকাকে পেতে এদিক ওদিক ঘুরে আমি ক্লান্ত। ক্লান্ত দেহ আর এক বুক জ্বালা নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছি।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, প্রেমকান্ত অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তাকে বুঝিয়ে ভারতে ফিরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি কথা রেখেছেন। ভারতে ফেরার উদ্দেশে ৬ আগস্ট দুপুরে বরগুনা থেকে চলে গেছেন।

২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরগুনার কলেজপড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে প্রেমকান্তের পরিচয়। প্রথমে প্রেমকান্তের ভিডিওতে নিয়মিত লাইক ও কমেন্ট করতেন। এরপর দুজনের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ হয়। সেখান থেকে প্রেম হয়। তরুণীর পরিবারের সঙ্গেও সুসম্পর্ক তৈরি হয়। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে অনেক আগেই তিনি বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে আসা হয়নি। ২৪ জুলাই তিনি বরিশালে আসেন। এরপর তিনি শহরের একটি হোটেলে ওঠেন। পরদিন দুপুর ১২টায় বরিশালের একটি কলেজের সামনে দুজন দেখা করেন। দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাবার খান। ওই দিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ফের দেখা করেন। এ সময় তরুণীর সঙ্গে তার কয়েকজন বান্ধবীও ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

English HighlightsREAD MORE »