ভেজাল মদেই ৩৪ মৃত্যু, সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ভেজাল মদেই ৩৪ মৃত্যু, সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪০ ১৩ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১৩:৪৪ ১৩ জুলাই ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্পিরিট সরবরাহ করতেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন। তা দিয়ে তৈরি হতো ভেজাল মদ। পরে তা ঢোকানো হতো ভাঙারি দোকান থেকে কিনে আনা পুরোনো মদের বোতলে। এই ভেজাল মদ পান করে বিষক্রিয়ায় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। অভিযোগপত্রে মনির হোসেনসহ সাতজনকে দায়ী করা হয়েছে। তারা হলেন- নাসির আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, সৈয়দ আল আমিন, মনির হোসেন, রেদোয়ান উল্লাহ, মনোতোষ চন্দ্র অধিকারী ও সাগর ব্যাপারী।

পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, করোনার কারণে বিভিন্ন ওয়্যারহাউস দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। তখন আগে থেকে মদ বিক্রি করে আসা নাসির আহমেদের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি মদ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে নাসির ভেজাল মদ তৈরির কথা ভাবেন। পরে তিনি তাঁর সহযোগী ভাঙারি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে ভেজাল মদ তৈরির প্রস্তাব দেন। জাহাঙ্গীর ভাটারায় একটি বাসা ভাড়া নেন। ভেজাল মদ তৈরির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান সৈয়দ আল আমিন। পরে নাসির আর জাহাঙ্গীর বিভিন্ন ভাঙারির দোকান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল কেনেন। প্রতিটি বোতলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর পূর্ব পরিচিত মনিরের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকায় ১০ লিটার স্পিরিট সংগ্রহ করেন। প্রতিটি মদের বোতলের ছিপি সংগ্রহ করেন ৫০-৭০ টাকায়। আর বোতলের ছিপির স্টিকার কেনা হয় ২৫-৩০ টাকায়। দুই লিটার স্পিরিট, তিন লিটার পানি আর পোড়ানো চিনি দিয়ে পাঁচ লিটার মদ বানান জাহাঙ্গীর। পরে তা নাসিরের কাছে পাঠানো হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, ভেজাল মদ তৈরির পর তা নাসিরের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতেন তাদের সহযোগী রেদোয়ান, মনোতোষ, সাগর, রিয়াজ ও জাহিদ। এক বোতল মদের দাম রাখা হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা। মনিরের সরবরাহ করা স্পিরিট দিয়ে বানানো ভেজাল মদ পান করে বিষক্রিয়ায় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ গাজীপুর, মোহাম্মদপুর ও ভাটারায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »