হুমায়ুন আজাদ হত্যা: রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২,   ২১ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

হুমায়ুন আজাদ হত্যা: রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

মাসুদ রানা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৯ ১২ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১২:০৩ ১২ এপ্রিল ২০২২

হুমায়ুন আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

হুমায়ুন আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছর আগে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বহুমাত্রিক লেখক, ভাষাবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ঐ বছরেরই ১২ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান হুমায়ুন আজাদ। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল মামুন আদালত এ আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছেন। তবে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবে বলে মনে করছেন আসামিপক্ষ।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, হুমায়ুন আজাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাঁচজন জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে আসামি ভাগ্নে শহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে সাক্ষীদের জবানবন্দি, মামলার আলামত ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত মামলার সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, আসামিরা হুমায়ুন আজাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারা সবাই নির্দোষ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পাবেন বলে মনে করছি।

মামলার অভিযোগে যা বলা হয়

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সিএমএইচে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান। ঐ ঘটনায় পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও অপর একটি মামলা হয়।

২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর এই মামলার বাদী মো. মঞ্জুর কবির মামলাটির বর্ধিত তদন্তের আবেদন করলে ঐ বছরের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বিভিন্ন সময় মামলাটি তদন্ত করেছেন রমনা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর কাজী আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমান ও লুৎফর রহমান।

২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর আসামি আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ৫ দফায় বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ঐ মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ঐ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ১৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

মামলার আসামিরা

এ মামলায় পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে এ মামলায় কারাগারে আছেন দুই আসামি। তারা হলেন- জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ও আনোয়ার আলম। এই মামলায় পলাতক আছেন আসামি সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ। মারা গেছেন আসামি হাফিজ মাহমুদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/আরএইচ

English HighlightsREAD MORE »