অভিযোগ প্রমাণ হলে ‘শিশুবক্তা’র যে সাজা হতে পারে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ মে ২০২২,   ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

অভিযোগ প্রমাণ হলে ‘শিশুবক্তা’র যে সাজা হতে পারে

মাসুদ রানা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১০ ২৬ জানুয়ারি ২০২২  

আলোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম- ফাইল ফটো

আলোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম- ফাইল ফটো

রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আলোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো। 

বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুটি ধারায় রফিকুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করেন।

এ দুই ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার তিন বছর থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এদিন কারাগার থেকে আসামি রফিকুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবী শোহেল মো. ফজলে রাব্বি অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। 

এর আগে ৩০ নভেম্বর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই ধারায় যা বলা হয়েছে:-

২৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে- (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণু করিবার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা তদুদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৩১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল রফিকুল ইসলামকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন ৮ এপ্রিল র‍্যাব বাদী হয়ে গাজীপুরের গাছা থানায় মামলা করে। ঐ দিনই রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »