শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর অঙ্গে পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি প্রবেশ করায় দিহান

ঢাকা, বুধবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর অঙ্গে পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি প্রবেশ করায় দিহান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫২ ১৮ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৯ ১৮ নভেম্বর ২০২১

ফারদিন ইফতেফার দিহান

ফারদিন ইফতেফার দিহান

রাজধানীর কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হওয়ার একমাত্র কারণ আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহান শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে তার নির্জন বাসায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর অঙ্গে প্রবেশ করায়। দিহানের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

গত ৮ নভেম্বর ঐ শিক্ষার্থীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহানের (১৮) বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক খালেদ সাইফুল্লাহ। এ বিষয়ে আগামী ২২ নভেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

অভিযোগপত্রে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভিকটিমের (শিক্ষার্থী) যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হওয়ার একমাত্র কারণ আসামি দিহান ভিকটিমকে ফুসলিয়ে তার নির্জন বাসায় এনে অমানবিকভাবে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ বর্বরোচিত পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি ভিকটিমের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঙ্গে প্রবেশ করে। ধর্ষণের সময় আসামির দিহানের অমানবিক কার্যকলাপের কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়েন। আসামি ধর্ষণের বিষয়টি কৌশলে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর আসামি দিহান ভিকটিমের পরিহিত অন্তর্বাস ঘটনাস্থলে ফেলে রেখেই অচেতন ভিকটিমকে তার টি শার্ট ও প্যান্ট পরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ খুব দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডাকে সাড়া দিয়ে হাসপাতালে চলে আসায় আসামি দিহান পালানো বা অন্য কোনো পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়।

সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামি দিহানের বিরুদ্ধে ২০২০  সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আসামি দিহানের বিরুদ্ধে ২০২০  সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো।

গত ১৩ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিহানের যৌনবর্ধক ওষুধ ও মাদক সেবন করেছে কিনা, তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর গত ১০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালত দিহানের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পরদিন গত ১১ জানুয়ারি দিহানের বাসার দারোয়ান দুলাল মিয়া সাক্ষী হিসেবে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে জবানবন্দি দেন।

এর আগে, ৮ জানুয়ারি আসামি দিহান স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ এম আসাদুজ্জামান আসামি দিহানের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত দিহানের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঐ শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এই মামলার একমাত্র আসামি ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া শিক্ষার্থী দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ঐ শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে। অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তার কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীর বাবা মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় ইফতেখার ফারদিন দিহানকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। এরপর কলাবাগান থানার পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখান।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ