মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায় কাল 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   ১৩ মাঘ ১৪২৮,   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায় কাল 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৯ ১৪ নভেম্বর ২০২১  

সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। ফাইল ছবি

সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। ফাইল ছবি

প্রায় ১৯ বছর আগে মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় রায়ের জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য রয়েছে। 

ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। এ মামলার প্রধান আসামি হলেন-সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

গত ২৬ অক্টোবর এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। এরপর আদালত পুনরায় রায়ের জন্য ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। 

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ বর্তমান মডেল থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সফি উদ্দিন। এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ুম আলী সরদার। 

এরপর নিহত তিন্নির লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামে নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেলকন্যা তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। 

সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তিন্নি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ গোলাম ফারুক অভি অভিযুক্ত হলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। আর অভির অনুপস্থিতিতেই ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হত্যা ও মরদেহ গুমসংক্রান্ত মামলায় অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। এর আগে ৬ নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। তিন্নিও তাকে তালাক দেন। ওই দিনই পিয়ালকে তার দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। 

এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি। একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন। ১০ নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হত্যা করা হয়। 

এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয় লাশ। কিন্তু পানিতে নয়, লাশটি পড়ে পিলারের উচুঁ অংশে। পরদিন সকালে লাশ ঘিরে জমে উৎসুক জনতার ভিড়। কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। মর্গে চার দিন রাখার পর ১৫ নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন্নিকে।

চাঞ্চল্যকর তিন্নি হত্যা মামলার আসামি গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

English HighlightsREAD MORE »