রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়: সেই বিচারককে আদালতে না বসার নির্দেশ

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২,   ১৩ মাঘ ১৪২৮,   ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়: সেই বিচারককে আদালতে না বসার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:১৯ ১৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১১:০৮ ১৪ নভেম্বর ২০২১

হাইকোর্টের ফাইল ছবি

হাইকোর্টের ফাইল ছবি

৭২ ঘন্টার পর ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবে না এমন পর্যবেক্ষণ দেয়া ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। 

রোববার এ ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়। এর আগে, গতকাল শনিবার আইনমন্ত্রী বলেন, ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবে না, বিচারকের দেয়া রায়ের এমন পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। তিনি বলেছেন, বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রবিবার প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারকের পাওয়ার সিজ (ক্ষমতা কেড়ে নেয়া) করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হবে।

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেন আদালত। এ মামলায় কয়েকটি পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন বিচারক। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার এ আদেশ ও পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। অযথা আদালতের সময় নষ্ট করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে এ মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি প্রতিবেদনে কোনো সেক্সুয়াল ভায়োলেশনের (যৌন সহিংসতা) বিবরণ নেই। ভুক্তভোগীর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা আসামিদের সঙ্গে মিলেনি। ৩৮ দিন পর এসে তারা (দুই ছাত্রী) বললো 'রেপড হয়েছি', বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার বিবেচনা করা উচিত ছিল। তা না করে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের 'পাবলিক টাইম নষ্ট' করেছেন বলে পর্যবেক্ষণে বলেছেন বিচারক।

আদালত পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। পুলিশ যেন ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর কোনো ধর্ষণের মামলা না নেয়।

বিচারক রায় পড়ার সময় আরো বলেন, আপনারা বলছেন- এটি একটি আলোচিত মামলা, কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে না। আমার কাছে সব মামলাই আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলাটির মেডিকেল রিপোর্টে কিছুই পাওয়া যায়নি এবং ডাক্তাররা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

মামলার আসামিরা হলেন- সাফাত আহমেদ, সাফাতের দুই বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম ও সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে বনানী থানায় মামলা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, হোটেলে আসার পর ওখানে কোনো পার্টির পরিবেশ না দেখে বাদী ও তার বান্ধবী চলে যেতে চান। সাফাত আহমেদ তাদের কেক কাটার পর যাওয়ার অনুরোধ করেন। সে সময় বাদী ও তার বান্ধবী ছাড়াও তাদের একজন চিকিৎসক বন্ধু ও তার বান্ধবী ছিলেন। তারা সবাই চলে যেতে চাইলে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিম বাদীর চিকিৎসক বন্ধুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে তার গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন এবং তাদের (চিকিৎসক ও তার বান্ধবী) একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, 'পালাবি না।' এরপর সাফাত ও নাঈম বাদী ও তার বান্ধবীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। গাড়িচালক বিল্লাল বাদীর চিকিৎসক বন্ধুকে মারধরের ভিডিও ধারণ করেন।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাফাত বলেন, বাদীর সঙ্গে জন্মদিনের সপ্তাহ দুয়েক আগে তার পরিচয় হয় সাদমান সাকিফের মাধ্যমে। দ্রুতই তারা বন্ধু হয়ে ওঠেন। তিনি দাবি করেন, বাদীর পছন্দে তিনি রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিন উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দুটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। ২৮ মার্চ রাতে তারা মদ খেয়ে বেসামাল ছিলেন।

আসামি নাঈম আশরাফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। নাঈম জবানবন্দিতে বলেন, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। সেই সূত্রে তার সঙ্গে বেশ কিছু মডেলের পরিচয় ছিল। তারা সুযোগ পেলে ইচ্ছেমতো এ নারীদের ব্যবহার করতেন। জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও বিকেল থেকে দুজন মডেল ছিলেন। পরে তাদের অনুরোধে আরো একজন বাড্ডা থেকে যোগ দেন। ধর্ষণের শিকার দুই নারী ও তাদের বন্ধুরা হোটেলে আসেন রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে। অতিথিদের একজনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তিনি হোটেলে ফেরেন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়, এ মামলায় ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। গত ৩ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। সেদিন এ মামলার পাঁচ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই প্রধান আসামি সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

English HighlightsREAD MORE »