কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত পাপুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২২ ডিসেম্বর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

অর্থপাচার মামলা

কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত পাপুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২২ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪১ ২১ অক্টোবর ২০২১  

কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল- ফাইল ছবি

কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল- ফাইল ছবি

অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচার আইনের মামলায় কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের নতুন এ দিন ধার্য করেন। সোমবার আদালতের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।

এ মামলায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর তারা দুজন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত দুইজনের পাসপোর্ট জমাদান সত্ত্বে জামিন দেন। একইদিন পাপুলসহ চার জনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সিআইডির আবেদনের পর পাপুলসহ আটজনের আরো ৫৩ টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি আদালত পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। 

গত ১১ নভেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে পাপুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত লন্ডারিং হয় ১৪৮ কোটি টাকা। অথচ মাত্র বয়স ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজের কোনো আয়ের উৎস নেই। অন্যদিকে এফডিআর হিসাবের ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার কোনো উৎস শ্যালিকা জেসমিন দাখিল করতে পারেননি। যে কারণে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভাগে দখলে রাখার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযাগে এবং প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরাধে আইনের ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুয়েতের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে পাপুলের নামে জমা থাকা ১৩৮ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মামলায় কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের চার বছরের কারাদণ্ড দেন কুয়েতের আদালত। একই সঙ্গে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।  
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ