রিমান্ড শেষে পিকে হালদারের বান্ধবী রুনাই কারাগারে

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রিমান্ড শেষে পিকে হালদারের বান্ধবী রুনাই কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:২৫ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

নাহিদা রুনাই- ফাইল ছবি

নাহিদা রুনাই- ফাইল ছবি

ভুয়া কাগজপত্রে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ তুলে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে পি কে হালদারের বান্ধবী নাহিদা রুনাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েসের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। 

এর আগে গত ১৬ মার্চ বিকেল ৪টায় রাজধানীর মতিঝিল এলাকা রুনাইসহ তিনজনকে  দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে।

এরপর তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো.  গুলশান আনোয়ার প্রধান প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে তাদের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিনজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন- ইন্টারন‌্যাশনাল লিজিংয়ের ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরী। 

পিকে হালদারের অর্থ পাচারের বিষয়গুলো দেখভাল করতেন নাহিদা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ওপর মহলকে ম্যানেজ করতেন তিনি। আর এসব কাজের পুরস্কার হিসেবে নাহিদাকে শূন্য থেকে কোটিপতি বানিয়েছেন পিকে হালদার।

এসএমই পলান শাখার অফিস এক্সিকিউটিভ থেকে এক সময় পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ‘বড় আপা’ হিসেবে পরিচিতি পান রুনাই। রিলায়েন্স ফিন্যান্স থেকে নাহিদাকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে নিয়ে আসেন পিকে হালদার। দ্রুততম সময়ে চারটি পদোন্নতি দিয়ে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করেন।

পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাহিদা রুনাই ছাড়াও পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ আরেকজন বান্ধবী ছিলেন অবন্তিকা বড়াল। দুই বান্ধবী নাহিদা রুনাই ও অবন্তিকা বড়ালকে নিয়ে অন্তত ২০-২৫ বার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। 
এই দু’জনের সঙ্গে তিনি পৃথকভাবে ২০ থেকে ২৫ বার সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। নাহিদা রুনাই আনান কেমিকেল লিমিটেড নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র তৈরি করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ ক্যাসিনো মালিকদের সম্পদের তদন্ত শুরু করলে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুদক প্রায় ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। 
এরপর গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত আসামি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

কানাডায় অবস্থানকারী পিকে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে তিন হাজার কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এমকেএ