মৃত তরুণীকে জীবিত উদ্ধার: পাঁচজন রিমান্ডে 

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মৃত তরুণীকে জীবিত উদ্ধার: পাঁচজন রিমান্ডে 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১০ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:৪৩ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ১৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে ভাটারা থানায় করা মামলায় সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- রিনা বেগম ওরফে লতা বেগম, সোহাগ ব্যাপারী, রাব্বী, আল আমিন ও বছির। 

গতকাল মঙ্গলবার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযানে ফরিদপুর থেকে ভুক্তভোগী তরুণীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)।

২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল সোহাগ ব্যাপারী নামে একজন গাড়িচালক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে নুরের চালা এলাকার গলির সামনে নামিয়ে দেয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মেয়েটি। তার পরিবার ভেবেছিল মেয়েটি মারা গেছে। এই ঘটনার ৮ দিন পর ২৪ এপ্রিল পূর্ব ভাটারার চিতাখোলা ব্রিজের পূর্ব পাশে বালুর মাঠে অজ্ঞাত পরিচয় এক কিশোরীর বস্তাবন্দি ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ভাটারা থানা পুলিশ।

মেয়েটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করে এবং সুযোগ বুঝে বালুর মাঠে পুতে রাখে। এই ঘটনা শুনে মেয়েটির খালা বাসনা বেগম আত্মীয়-স্বজনসহ থানায় গিয়ে আংশিক বিকৃত কিশোরীর গলা কাটা লাশ দেখে ও তার পরিহিত জামা দেখে পুলিশকে জানায়, এটা ভিকটিমের মরদেহ।

এ বিষয়ে ভিকটিমের খালা প্রথমে থানায় একটি জিডি করেন এবং পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এই মামলায় ভাটারা থানা পুলিশ ২০১৯ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও প্রতিবেদনে ‘তথ্যগত ভুল’ আছে উল্লেখ করে এটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ জোনের উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মাসুদ খান তদন্ত করে দীর্ঘ ৫ বছর পর মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

জানা যায়, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ১৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে একটি চক্র। বর্তমানে মেয়েটির বয়স ২১ বছর। পাঁচ বছর ধরে মেয়েটির সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথাও বলতে দেয়নি অসাধু চক্রটি। তার পরিবার জানতো মারা গেছে। মেয়েটির বাবা-মা দরিদ্র হওয়ায় তারা মেয়েকে খালা বাসনা বেগমের কাছে রাখে। বাসনা বেগম লতা বেগম নামে এক নারীর বাসায় মেয়েটিকে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠিয়ে দেয়। লতার স্বামী ওই যুবতীকে দীর্ঘ ৫ বছর লুকিয়ে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ