পিকে হালদারের বান্ধবী শুভ্রা রানীর দায় স্বীকার

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পিকে হালদারের বান্ধবী শুভ্রা রানীর দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৫ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:২৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

পিকে হালদারের বান্ধবী শুভ্রা রানী

পিকে হালদারের বান্ধবী শুভ্রা রানী

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) আরেক বান্ধবী ওয়াকামা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান শুভ্রা রানী ঘোষ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

এদিন রিমান্ড শেষে আসামি শুভ্রাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো.  গুলশান আনোয়ার প্রধান ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এর আগে, ২২ মার্চ শুভ্রা রানী ঘোষকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে দুদক। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো.  গুলশান আনোয়ার প্রধান তার পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এরপর শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, শুভ্রা রানীসহ ১১ আসামি প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে ক্ষমতার অব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ওয়ামা লিমিটেডের নামে জাল রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে অস্থিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভুয়া ঋণ পেতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে। সংশ্লিষ্ট ঋণের গ্রহীতা ওয়াকামা ইন্টারন্যাশনালে লিমিটেডের পরিচালকেরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মাধ্যমে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ভুয়া ঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত করে। তা সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড কর্মকর্তা এবং বোর্ড সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ওই অর্থ বিভিন্ন লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে পাচার করে। শুভ্র রানী প্রতিষ্ঠানের নামে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ ক্যাসিনো মালিকদের সম্পদের তদন্ত শুরু করলে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুদক প্রায় ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত আসামি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

কানাডায় অবস্থানকারী পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে তিন হাজার কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এমকেএ