মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৯ ৪ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৫ ৪ আগস্ট ২০২১

হাইকোর্টের ফাইল ফটো

হাইকোর্টের ফাইল ফটো

নেত্রকোনায় মোবাইল কোর্টে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শিশুর মুক্তির জন্য নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার সম্পন্ন বেঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বরাবর চিঠি লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। 

বুধবার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের পাঠানো চিঠিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ও উচ্চ আদালতের রায়ের অনুলিপি যুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় আবেদনটি বিবেচনা করে ওই দুই শিশুর তাৎক্ষণিক মুক্তির আর্জি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে জানতে পারি, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের সাজা দিয়েছেন। এ প্রতিবেদন পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশু আইনের অধীন মোবাইল কোর্টের কোনো এখতিয়ার নেই। ফলে অত্র সাজা এখতিয়ার বহির্ভূত।

চিঠি পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে আইনজীবী বলেন, আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমার মনে আছে, ফতোয়ার মামলায় পত্রিকার প্রতিবেদন দরখাস্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। ছাত্রজীবনে পড়েছি একটি টেলিফোন কল নাকি এফআইআর হিসেবে গণ্য হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন সন্তানহারা মা নীলাবতি বেহারা। সেই চিঠির ভিত্তিতে তিনি ক্ষতিপূরণও পেয়েছিলেন। স্বচক্ষে দেখেছি, পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেক স্বপ্রণোদিত রুল জারি হয়েছে। বিচারও হয়েছে। জেল থেকে পাঠানো চিঠিগুলো জেল আপিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব উদাহরণ দেখে কিছুটা অতি উৎসাহী হয়ে এ পত্র লিখলাম। আশা করি, আমার এ পত্র বৃথা যাবে না।

চিঠিতে তিনি বলেন, আমার নিবেদন এই যে, সুপ্রিম কোর্ট রুলসের ১১ক অধ্যায়ের বিধি ১০ মোতাবেক অত্র চিঠিটি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবেদন হিসেবে বিবেচনা করে সংযুক্ত ওই জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে উল্লিখিত শিশুদের তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দিতে অথবা ক্ষেত্রমতে উপযুক্ত আদেশ প্রদানে আপনার একান্ত মর্জি হয়।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে ইমেইলে এ চিঠি পাঠিয়েছি। আমার জানামতে কোনো বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতের কোনো বিচারপতিকে সরাসরি চিঠি এটাই প্রথম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ