চিকিৎসক ঈশিতার ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ 

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

চিকিৎসক ঈশিতার ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৮ ২ আগস্ট ২০২১  

চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা - ফাইল ছবি

চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা - ফাইল ছবি

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশিষ্ট আলোচক ও কূটনীতিক এমন নানা ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ ও খ্যাতি অর্জনের অভিযোগ গ্রেফতার চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগিতা শহিদুল ইসলাম দিদারকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। 

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা মো. আশেক ইমামের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর শাহ আলী থানায় প্রতারণা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

এর আগে, গতকাল রোববার সকালে মিরপুর থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিকিৎসক ঈশিতা ও তার সহযোগী দিদারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। এসময় তার বাসা থেকে ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, ভুয়া সিল, ভুয়া সনদ, ভুয়া প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ইয়াবা, বিদেশি মদ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের দুটি ইউনিফর্ম, র‌্যাংক ব্যাচ উদ্ধার করে র‌্যাব। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ঈশিতা পেশায় চিকিৎসক। তিনি ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২০১৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালের প্রথম দিকে মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এরপর একটি সরকারি হাসপাতালে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করেন। তবে ৪ মাস পর অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়।

মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই ঈশিতা প্রতারণা শুরু করে। করোনাকালে তিনি বিভিন্ন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। 
ঈশিতা নিজেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশিষ্ট আলোচক, ডিপ্লোম্যাট, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পিএইচডি হোল্ডার, টকশো আলোচক, মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন বলে ভুয়া পরিচয় দিতেন।

আসলে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসা শাস্ত্রে তার উচ্চতর কোনও ডিগ্রি নেই। ২০২০ সালে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশে হোটেল পার্ক অ্যাসেন্টে অনুষ্ঠিত জিআইএসআর ফাউন্ডেশনের প্রদত্ত ইন্টারন্যাশনাল ইন্সপাইরেশনাল ওমেন অ্যাওয়ার্ড (আইআইডব্লিউ ২০২০) পেয়েছেন বলে প্রচার করেন, যা ৩৫ বছর বয়সী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে ‘বছরের সেরা নারী বিজ্ঞানী’ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রিসার্চ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’, ভারতের ‘টেস্ট জেম অ্যাওয়ার্ড ২০২০’, থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে ‘আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ ইত্যাদি পেয়েছেন বলেও দাবি তার। তবে এসবই ভুয়া। এসব অনুষ্ঠানের ছবি এডিট করে নিজের ছবি বসিয়ে দিতেন তিনি।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, আসামি ঈশিতা প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া নথি উপস্থাপন করে ২০১৮ সালে জার্মানিতে ‘লিন্ডা ও নোবেল লরিয়েট মিট-মেডিসিনে’ অংশ নেন। পরে প্রচারণা চালান যে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে ওই অনুষ্ঠানে তিনি কোনও পুরস্কার পাননি। তিনি সেখানে গিয়ে ছবি তুলেছেন। তিনি শুধু জার্মানিতে গিয়েছিলেন। আসামি ঈশিতা করোনা মহামারিকে পুঁজি করে ভার্চুয়াল জগতে প্রতারণায় সক্রিয় ছিলেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচক ও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি অনলাইনে করোনা প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন ও সার্টিফিকেট প্রদান করে প্রচার-প্রচারণা করেছেন।  

ঈশিতা ‘ইয়াং ওয়ার্ল্ড লিডারস ফর হিউম্যানিটি’ নামে একটি অনিবন্ধনকৃত ও অননুমোদিত সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যার ফেসবুক পেজ ও লিংকইন আইডি রয়েছে। সংস্থাটির সদর দফতর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বলে প্রচারণা করা হয়েছে। এই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতারণা নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বুরুন্ডি, আমেরিকা, নাইজেরিয়া, ওমান, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশে অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়াও উক্ত দেশগুলোতে এই সংগঠনের ব্যানারে সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি আয়োজন করা হয়ে থাকে। যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ভুয়া অ্যাওয়ার্ড বিতরণের বিনিময়ে অর্জিত অর্থের সিংহভাগ ঈশিতা ও তার প্রধান সহযোগী গ্রহণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ