পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই: রিমান্ড শেষে পাঁচজন কারাগারে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই: রিমান্ড শেষে পাঁচজন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫০ ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৩ ২৩ জুলাই ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ আসামির রিমান্ড শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

আসামিরা হলেন- মো. সগির, মো. সুমন, মো. জাকির, মো. হামিদ আহমেদ ও সোহেল ওরফে আরিফ। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৮ জুলাই ধারাবাহিক অভিযানের এক পর্যায়ে ধানমন্ডি থানার আরেকটি ছিনতাই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, দুটি আইফোন, বিভিন্ন মডেলের ১০টি ফোন, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলের ভাঙ্গা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। তার পরদিন তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের সাত দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের আইফোনের ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দারাও মোবাইলটি (আইফোন) উদ্ধারে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এরপর সিসি ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোববার রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে প্রথমে মো. সগির ও মো. সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. জাকির, মো. হামিদ আহমেদ ও সোহেল ওরফে আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা মাদকসেবীর পাশাপাশি পেশাদার ছিনতাইকারীচকের সদস্য। তারা রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ওই স্থান দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্যাগ করে। মন্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর একজনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রিও করা হয়। তবে সে ওই মোবাইলটি অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখে। গত সপ্তাহে সেটি চালু করা হয়। এরপরই মূলত আইফোনটির অবস্থান নিশ্চিত হয়, পরে সেটি উদ্ধার হয়।

উল্লেখ্য, গত ২১ মে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিজ দফতর থেকে বেইলি রোডের বাসায় ফেরার পথে বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে সন্ধ্যা সাতটার দিকে গাড়ির জানালা খুলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এক ছিনতাইকারী মন্ত্রীর মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ