ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: তিনজন রিমান্ডে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: তিনজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৭ ১৬ জুন ২০২১  

গত মঙ্গলবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়

গত মঙ্গলবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম এর ইলেকট্রিক জার্নাল পরিবর্তন করে দুই কোটি ৫৭ লাখ এক হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় গ্রেফতার অপর আসামি সায়মা আক্তারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 
রিমান্ডে যাওয়া আসামি হলেন- আল-আমিন বাবু, মেহেদী হাসান ওরফে মামুন ও  আসাদুজ্জামান আসাদ। 

গত মঙ্গলবার অভিযানে চালিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় তাদের থেকে ৪টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম এর ইলেকট্রিক জার্নাল পরিবর্তন করে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। এ চক্রের মূল হোতা মীর মো. শাহারুজ্জামান ওরফে রনি কৌশলে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩৬৩টি লেনদেন করিয়ে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

আসামি আসাদ বিসমিল্লাহ বিডি এন্টার প্রাইজ নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্টশিপ নেয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের বহুল শ্রমিক সম্বলিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের স্যালারি অ্যাকাউন্ট করার কথা বলে তাদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে। ডিবিবিএল এজেন্ট কর্তৃক আবেদনকৃত অ্যাকাউন্ট ও এটিএম কার্ডগুলো তৈরি হওয়ার পর গ্রাহকের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে স্ব-স্ব এজেন্টের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু আসামি আসাদ কার্ডগুলো তাদের অজান্তে অপর আসামি আল আমিন বাবুর কাছে টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করে। আল আমিন বাবু সংগৃহীত কার্ডগুলোতে ১০/২০ হাজার টাকা করে ক্রেডিট করে। আল আমিন বাবু ওই টাকা এটিএম থেকে ডেবিট করার সময় ডিবিবিএল-এর আইটি অফিসার তথা চক্রের মূল হোতা মীর মো. শাহারুজ্জামান ওরফে রনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। টাকা উত্তোলনের সময় এটিএম বুথ কর্তৃক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে যে জার্নাল সৃষ্টি হয় তা সংরক্ষণ সার্ভারে যাওয়ার আগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আইটি অফিসার সেটি পরিবর্তন করে দেন।

ডিবিবিএল-এর কর্মকর্তা অভিযুক্ত শাহারুজ্জামান টাকা উত্তোলনের পূর্ব মূহুর্তে জার্নাল সংরক্ষণ সার্ভারের সঙ্গে ইএসকিউ এটিএম মনিটরিং সফটওয়ারের মাধ্যমে যে এটিএম বুথগুলো পরিচালিত হয় সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সফটওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এটিএম বুথের টাকা উত্তোলনের সময় যে জার্নাল সৃষ্টি হয় তা সার্ভারে জমা হয় না। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত শাহারুজ্জামান ‘সাকসেসফুল’ মেসেজকে ‘আনসাকসেসফুল’ মেসেজে রূপান্তরিত করার ফলে উক্ত মেসেজ পরবর্তীতে জার্নাল সার্ভারে গেলেও তা আর সাকসেসফুল মেসেজ হিসেবে গণ্য হয় না। অর্থাৎ বুথ থেকে টাকা উত্তোলিত হওয়ার পরও মেসেজ আনসাকসেসফুল দেখায়।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, আসামি আল আমিন বাবু পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হটলাইনে ফোন করে অভিযোগ করে, সে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সময় তার ব্যালেন্স কেটে নিয়েছে কিন্তু টাকা হাতে পায়নি। এরপর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দায়িত্বরত অফিসার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অফিসার যখন দেখেন, টাকা উত্তোলনের জন্য কার্ডটি এটিএম বুথে প্রবেশ করানো হয়েছিল কিন্তু জার্নালটি ‘আনসাকসেসফুল’ তখন উক্ত অফিসার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স সমন্বয় করে দেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ