সাভারে নীলা হত্যা: মিজানুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সাভারে নীলা হত্যা: মিজানুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০০ ১৪ জুন ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৯ ২৩ জুন ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাভারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নীলা রায় নামে ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। 

গত ২৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নির্মল কুমার দাস ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ সোমবার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এএসআই ওসমান মুন্সি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এ মামলায় মিজানুরের বাবা আব্দুর রহমান এবং মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে মোট ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। 

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অপর দুই আসামি হলেন- মিজানের সহযোগী সেলিম পাহলান ও সাকিব হোসেন।

অভিযোগপত্রে মিজানুরের বাবা মার বিষয়ে বলা হয়েছে, তারা বার বার তাদের ছেলেকে নীলার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে নিষেধ করেছিলেন। তাদের কথা না শোনায় মিজানুরকে তারা ওই হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে অন্যত্র বিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

২০২০ সালের গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারে পৌরসভার উলাইল এলাকা থেকে মিজানুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। তার পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর আদালত আসামি মিজানুর রহমানের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর রিমান্ড চলাকালীন মিজানুর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার এসআই নির্মল চন্দ্র ঘোষ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে মিজানুর কারাগারে আটক রয়েছে। তবে অপর দুই আসামি সেলিম ও সাকিব জামিনে রয়েছে। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা রায় ও তার ভাই অলক রায়ের পথরোধ করে বখাটে মিজানুর রহমান। পরে তার ভাইয়ের কাছ থেকে নীলাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে নিকটস্থ তার নিজ পরিত্যক্ত বাড়ির একটি কক্ষে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে রাতে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নীলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পরদিন গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নীলার বাবা নারায়ণ রায় বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় মিজানুর রহমান। এছাড়া তার বাবা আব্দুর রহমান এবং মা নাজমুন নাহারসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ