জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক এখতিয়ার কেড়ে নিলো হাইকোর্ট

ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ধর্ষণ মামলায় শিশুদের কারাগারে পাঠানো

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক এখতিয়ার কেড়ে নিলো হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৯ ১৩ জুন ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রফিকল ইসলাম ও দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই চার শিশুকে প্রিজনভ্যানে তোলার অপরাধে আরো চার পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত মামলার রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেয়। আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।

রায়ে চার শিশুকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহর ফৌজদারি মামলার বিচারিক এখতিয়ার প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জিএ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার এখতিয়ার দিতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেছে, শিশু আইনে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারকদের শিশুর অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য যে নির্দেশনা রয়েছে তারা তা পালন করেননি। যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। তাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন পুলিশ সদস্যের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নাকচ করে এই নির্দেশনা দেয়া হলো।

রায়ে হাইকোর্ট শিশুদের গ্রেফতার ও তাদের আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট দেশের সব থানায় শিশুবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, শিশু ডেস্ক স্থাপন এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় যে ধরণের নির্দেশনা রয়েছে তা সব থানায় টাঙানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ১১ অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় চার শিশুর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের মামলা স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল জারি করেন আদালত।

এছাড়া গত বছরের ৮ অক্টোবর রাতে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ৪ শিশুর জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে রাতেই শিশুদের এসি মাইক্রোবাসে করে তাদের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি চার শিশুকে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহকে তলব করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়।

রাত ৯টায় বিচারপতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বসিয়ে এ আদেশ দেন।  হাইকোর্টের এ আদেশ অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের বিচারক চার শিশুকে জামিন দেন।

৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে আসামি করে গত বছরের ৬ অক্টোবর মামলা করা হয়। এ মামলায় ওইদিনই চার শিশুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৭ অক্টোবর তাদের বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ এক আদেশে ওই চার শিশুকে যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাদের যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারিত হয়। এই সংবাদ বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসে। এরপর রাতেই বিচারপতিদ্বয় নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ভার্চুয়াল আদালত বসান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ