সামি-কিশোর-দিদারুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সামি-কিশোর-দিদারুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৯ ১৩ জুন ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি আল জাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রতি প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের অন্যতম প্রধান চরিত্র সামিউল ওরফে জুলকার নাইন সায়ের খান, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পুলিশ।

রোববার মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে এ মামলায় লেখক মুশতাক আহমেদসহ চারজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত অপর আসামিরা হলেন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান, নেত্র নিউজ এর তাসনীম খলিল, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ। এছাড়া অব্যাহতি পাওয়া অপর আসামিরা হলেন-যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম, জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, ফিলিপ শুমাখার।

এর আগে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহসীন সর্দার  ও লেখক মুশতাক আহমেদকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এছাড়া অভিযোগপত্রে আটজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) ওপর নারাজি দেন রাষ্ট্রপক্ষ। এর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন নারাজি গ্রহণ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটিটিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

গত বছরের ৫ মে র‌্যাব-৩ সিপিসি-১ এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ১১ জনের নামে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এছাড়া অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা ‘আই এম বাংলাদেশি’ নামে ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। ওই পেজের অ্যাডমিন শায়ের জুলকারনাইন এবং আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ সমাচার, স্বপন ওয়াহিদ, মোস্তাক আহম্মেদ নামীয় ফেসবুক আইডিসহ পাঁচজন এডিটর পরস্পর যোগসাজশে ফেসবুক পেজটি দীর্ঘদিন পরিচালনা করছেন। 
আহমেদ কবীর কিশোর, তাসনিম খলিল, জুলকারনাইন ওরফে সামিউল, শাহেদ আলম ও আসিফ মহিউদ্দিনের মধ্যে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিং’ এর প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোনে ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। আলামত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনাভাইরাস, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, শাহেদ আলম, আসিফ মহিউদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ