গা শিওরে ওঠা জবানবন্দি: সন্তানকে থাপ্পড় দেয়ায় ফুফুর বুকে বসে ক

ঢাকা, রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১০ ১৪২৮,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

গা শিওরে ওঠা জবানবন্দি: সন্তানকে থাপ্পড় দেয়ায় ফুফুর বুকে বসে কোপাতে থাকেন জেসমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১২ জুন ২০২১  

নিহত নিকিতা আক্তার - সংগৃহীত

নিহত নিকিতা আক্তার - সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানের নদ্দা এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিকিতা আক্তার (৪০) নামে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার ভাতিজি জেসমিন আক্তার রূপার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসীর আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এদিন আসামি জেসমিন আক্তারকে আদালতে হাজির করেন। এরপর আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, সন্তানকে চড় (থাপ্পড়) দেয়ায় ফুফু নিকিতা আক্তার (৪০) ও ভাতিজি জেসমিন আক্তারের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। এসময় ঘরে থাকা শিলপাটার শিল দিয়ে ফুফুর মাথায় আঘাত করেন জেসমিন। এতে নিকিতা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বটি দিয়ে বুকে বসে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে জেসমিন। এতেই নিকিতার মৃত্যু হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো এক সময় রাজধানীর গুলশান থানার নদ্দা এলাকায় ভাতিজির শিলের আঘাতে ফুফু নিকিতার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত জেসমিন আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করে এবং নিকিতার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নিকিতার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর নিকিতার মরদেহ নিয়ে তার ভাই মো. আজাদ হোসেন গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পুলিশ জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলশানের নদ্দায় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জেসমিন আক্তার তার ফুফুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিকিতা আক্তার-মুরাদ দম্পতি রাজধানীর গুলশান থানার নদ্দা এলাকায় নিজ বাসায় থাকতেন। এ দম্পতির কোনো সন্তান নেই। এদিকে, দু’একদিন আগে ভাতিজি জেসমিন আক্তার তার দুই মেয়েকে নিয়ে ফুফুর বাসায় (নিকিতা) বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার ভোরে যখন নিকিতা ঘুমিয়ে ছিলেন তখন জেসমিন আক্তারের বড় মেয়ে ঘরে পানি ফেলে দেয়। এতে নিকিতার ঘুম ভেঙে যায়। বিরক্ত হয়ে ভাতিজির ওই মেয়েকে থাপ্পড় মারেন তিনি। এতে জেসমিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তার ফুফুকে (নিকিতা) জিজ্ঞাসা করেন কেন তার মেয়েকে মারলেন। এতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিকিতা তার হাতের কাছে ঝাড়ু জাতীয় কিছু দিয়ে জেসমিনকে আঘাত করেন। তখন জেসমিন ক্ষোভে ঘরে থাকা শিল দিয়ে ফুফুর (নিকিতা) মাথার পেছনে আঘাত করেন। এরপর নিকিতা মাটিতে পড়ে গেলে বটি দিয়ে বুকে বসে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন জেসমিন। এতে ঘটনাস্থলেই নিকিতার মৃত্যু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ