কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরী ধর্ষণ: ছেলে বন্ধুসহ চারজন কারাগারে

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরী ধর্ষণ: ছেলে বন্ধুসহ চারজন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ১৬ মে ২০২১  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছেলে বন্ধু আশিক রয়েছে।  

রোববার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদার আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর এআদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অপর তিনজন হলেন-অপু, রিফাত ও ফাহিম।

এদিন দুদিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাজাদী তাহমিদা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১২ মে তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাদের চারজনকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় এক মামলায় আসামি রিফাত ও অপু স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর ধর্ষণের ঘটনায় আরেক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চার আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে ৯ মে চার আসামিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেক আসামির সাতদিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মিশকাত শুকরানা প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই কিশোরীর মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছর ও অন্যজনের বয়স ১৭ বছর। ওই দুজন পরস্পর বান্ধবী। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর তারা কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকার মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যায়। বিষয়টি তাদের একজনের ছেলে বন্ধু আশিক জানতে পারেন। পরে আসিফ আবদুল্লাহপুর এলাকায় গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে দুজনকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে রাজাবাড়ি এলাকার নির্জন স্থানের একটি ছাপরা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আসিফের আরো আট বন্ধু ছিলেন। একপর্যায়ে আসিফসহ নয়জন ওই দুইজনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তারা রাত ১০টার দিকে বাসায় গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একজনের ছেলে বন্ধুসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসিফ হোসেন নামের ওই ছেলে বন্ধুসহ এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পাঁচজন পলাতক রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ