আরমানিটোলার আগুন: কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকের জামিন

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আরমানিটোলার আগুন: কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৭ ১২ মে ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার হাজি মুসা ম্যানসনের কেমিক্যাল গোডাউনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এদিন আসামি মোস্তাফিজুরের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

এর আগে, গত ৪ মে একই আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় মুসা ম্যানসন ভবনের মালিক মোস্তাক আহমেদ চিশতির জামিন দেন।

এদিকে গত ১ মে তিন দিনের রিমান্ড শেষে মুসা ম্যানসন ভবনের মালিক মোস্তাক আহমেদ চিশতি ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় আসামি মোস্তাফিজুরের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এরপর আদালত জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তার আগে গত ২৩ এপ্রিল বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী শিকদার ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন-মোস্তফা, গাফফার, সাইদ, ফিরোজ, তারেক, বাপ্পী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে হাজী মুসা ম্যানশনে নিচতলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় ২১ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এছাড়া ৩ জন পুরুষ ও একজন মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহতরা হলেন- রাসেল (২৮), সুমাইয়া (২২), অলিউল্লাহ (৪৫) ও কবির (৪০)। জানা গেছে, কেমিক্যালের বিষাক্ত ধোয়ায় শ্বাসরুদ্ধ ও আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ওই বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, বাড়ির মালিক মোস্তফা আহমেদ ও অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা মুসা ম্যানশনের নিচতলায় দাহ্য পদার্থ এবং কেমিক্যাল সংরক্ষণের জন্য দোকান/গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছিল। আসামিরা তাচ্ছিল্যভাবে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও অধিক লাভবানের জন্য আবাসিকস্থলে অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল সংরক্ষণের জন্য দোকান/গোডাউন বানিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে। তারা পেনাল কোড আইনের ৩০৪(ক)/৩৩৭/৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ