ডিএসসিসির নিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাৎ: ইয়াসিনের রিমান্ড নামঞ্জুর

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

ডিএসসিসির নিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাৎ: ইয়াসিনের রিমান্ড নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২০ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১৬:২৭ ৪ মে ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার আসামি মো. ইয়াসিন বাপ্পীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দেবদাস চন্দ্র অধিকারী এ রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এদিন আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এসময় আসামি পক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

গ্রেফতার ইয়াসিন বাপ্পী একটি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করাই ছিল তার পেশা। মামলার বাদী পাবেল দাস (২১) তার পরিচিত মানিক লাল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বাপ্পীর সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে আসামি বাদীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি দিতে পারবে বলে জানায়। ইয়াসিন বাপ্পী প্রলোভন দেখিয়ে জানায়, তার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব কর্মকর্তার সুসম্পর্ক। চাকরি পেতে হলে তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। চাকরির আশায় আসামির কথা বিশ্বাস করে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেন পাবেল দাস। এভাবে পাবেল দাসসহ আরো চার ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোট ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বাপ্পী। এ ঘটনা গত ২৭ এপ্রিল ডিএমপির বংশাল থানায় একটি মামলা করেন পাবেল দাস।

ভুক্তভোগী পাবেল দাস মামলার এজাহারে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর চাকরির জন্য ইয়াসিন বাপ্পীর বাসায় গিয়ে তিনি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা জন্য দেন। পরে ইয়াসিন বাপ্পী তাকে একটি নিয়োগপত্র দেন, যেটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিবের সিলসহ স্বাক্ষরিত। পরে নিয়োগপত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৬ জুন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অফিসে সুইপার পদে কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখেন ইয়াসিন বাপ্পী আসেননি। তার মতো আরো চার ভুক্তভোগী ইয়াসিন বাপ্পীর অপেক্ষায় বসে রয়েছেন।

পাবেল দাস এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, পরে ইয়াসিন বাপ্পী না আসায় পাবেল দাসসহ বাকি চার ভুক্তভোগী সিটি কর্পোরেশনের অফিসে গিয়ে নিয়োগপত্র দেখালে তারা বুঝতে পারেন নিয়োগপত্রটি ভুয়া। জাল সিল ও জাল স্বাক্ষর দিয়ে ইয়াসিন বাপ্পী তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন। পরে পাবেল দাস ইয়াসিন বাপ্পীর কাছে তার টাকা ফেরত চান। তখন বাপ্পী তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি চেক দেন।

পরে চেক নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বংশাল শাখায় যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই বলে জানায়। পরে আবারো ইয়াসিন বাপ্পীর কাছে ভুক্তভোগী টাকা দাবি করেন। তখন টাকা না দিয়ে পাবেল দাসকে মেরে ফেলার হুমকি দেন আসামি। এরপর ২৮ এপ্রিল আসামি ইয়াসিন বাপ্পীকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রেফতার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ