বরকত-রুবেল বিরুদ্ধে চার্জশিট ১৫ এপ্রিল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

২ হাজার কোটি টাকা পাচার

বরকত-রুবেল বিরুদ্ধে চার্জশিট ১৫ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৭ ১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:৩২ ১ এপ্রিল ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণের জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল আলম নতুন এ দিন ধার্য করেন। 

এদিন মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। তবে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন। 

এদিকে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ৮ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান মামলার অভিযোগপত্র দেখিলাম বলে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে ৩ মার্চ বরকত ও রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
 
অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, আসিকুর রহমান ফারহান, খন্দোকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।

এদিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বরকত ও তার ভাই রুবেলের ৪৮৭টি তফসিলে পাঁচ হাজার ৭০৬ বিঘা সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ১৮৮ ব্যাংক হিসাবের পৌনে ১০ কোটি টাকা এবং বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ ৫৫ টি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়। 

এর আগে গত বছরের ৮ অক্টোবর এ মামলায় বরকত ও তার ভাই রুবেলসহ পাঁচ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।

ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া অন্য তিনজন হলেন- বরকতের স্ত্রী আফরোজ আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আব্দুস সাদেক মুকুল।

২০২০ সালের ২৬ জুন অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে বরকত ও তার ভাই রুবেলকে প্রধান আসামি করে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি করে সিআইডি। ২০১২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনী–২০১৫–এর ৪ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। এছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি, নন–এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা। প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাইফরমাশ খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না।

এজাহারে আরো বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুন তিনি (এস এম মিরাজ) এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন।

২০২০ সালের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। সুবল সাহার বাড়ি শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

পরে ৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। 

এরপর এ অর্থপাচারের মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। ওই সময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন তারা। রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি ও তথ্যানুযায়ীনিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এ মামলায় নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও বেল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ