রেনু হত্যা মামলার বিচার শুরু

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

রেনু হত্যা মামলার বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৫ ১ এপ্রিল ২০২১  

তাসলিমা বেগম রেনু - ফাইল ছবি

তাসলিমা বেগম রেনু - ফাইল ছবি

রাজধানীর বাড্ডায় প্রাইমারি স্কুল গেটে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো। 

বৃহস্পতিবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতিমা ইমরোজ ক্ষনিকা আসামিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করেন। 

এদিন এ মামলায় কারাগারে আটক আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবী এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারের আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ জুলাই দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ২ ডিসেম্বর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করেন। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি পলাতক আসামি মহিউদ্দিন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত মামলাটি  ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।  এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল হক ১৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে দুই জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

আসামিরা হলেন- ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, মো. শাহিন, বাচ্চু মিয়া, মো. বাপ্পি, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, মো. রাজু ও মহিউদ্দিন। 

জাফর হোসেন পাটোয়ারী ও ওয়াসিম আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ওয়াসিম, হৃদয় এবং রিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রিয়া বেগম, বাচ্চু মিয়া, শাহীন, মুরাদ ও বাপ্পি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই তুবাকে ভর্তির খোঁজখবর নিতেই বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলেন রেনু। এ সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। ওই রাতেই রেনুর বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫শ’ জনকে আসামি করা হয়। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গণপিটুনিতে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, তাসলিমা বেগম রেনু এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ