ধর্ষণ মামলায় সাবেক এএসআই রাহেনুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

ধর্ষণ মামলায় সাবেক এএসআই রাহেনুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৯ ৯ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৪:৩০ ৯ মার্চ ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই রাহেনুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার দুপুরে পৃথকভাবে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে এবং মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনালে ৩ শত ৬৭ পাতার প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগ পত্র থেকে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানাধীন বাহার কাছনার দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে এএসআই রাহেনুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

এরপর পিবিআই এজাহারভুক্ত আসামি এসআই রাহেনুল ইসলাম, সুমাইয়া পারভীন মেঘলা, সুরভী আক্তার সমাপ্তি, বাবুল হোসেন এবং আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ আদালতে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

এছাড়াও ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। আসামিদের জবানবন্দি ও উদ্ধারকৃত আলামতসহ  ডিএনএ পরীক্ষায় গণধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

এএসআই রাহেনুল ইসলাম প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীকে ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর বাহার কাছনার সুমাইয়া পারভীন মেঘলার বাসায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ধর্ষণ করে ছাত্রীকে তার বাড়ির কাছে পৌঁছে দেয়। পরে মায়ের বকাবকির জন্য ওই ছাত্রী রাত দশটার দিকে মেঘলার বাড়িতে আবারো চলে আসে। পরে মেঘলা তার বান্ধবি সুরভী আক্তার সমাপ্তিসহ বাবুল ও কালামের সঙ্গে পরেরদিন সকাল এগারোটার দিকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করায়।

পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে এএসআই রাহেনুল ইসলাম রাজু, সুমাইয়া পারভীন মেঘলা এবং আসামি সুরভী আক্তার সমাপ্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অপরাধ করার প্রাথমিক প্রমাণ পায়।

এছাড়াও অপর দুই আসামি আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও মানবপাচার দমন ট্র্যাইবুনালে চার্জশিট দাখিল করেন।

এসময় রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের  বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ধর্ষণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হলো। অপরাধ করলে কেউ পার পাবেনা বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস