বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবে ৩৪ মৃত্যু: ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবে ৩৪ মৃত্যু: ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ২১ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৭ ৯ মার্চ ২০২১  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ ডুবে ৩৪ জন মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণের জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফ নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এদিন এ মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার নথি সিআরমিসে থাকায় আদালত চার্জশিট গ্রহণের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক শহিদুল আলম ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদসহ ১১ জনের চার্জশিট দেন।

চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন- লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন, আবদুস সালাম, ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয়। 

মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লঞ্চ মালিক কিছু কমোড ও মালামাল নামানোর জন্য ময়ূর কোম্পানির ম্যানেজার, সুপারভাইজার, মালিক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা মাস্টার, সুকানি, ড্রাইভার ও গ্রিজারদের নির্দেশ দেয়। যার কারণে ঘাতক লঞ্চের মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানি, গ্রিজারগণ তাড়াহুড়ো করে দ্রুত মালামাল সরবরাহের জন্য বোগদাদিয়া ডকইয়ার্ড ছেড়ে টার্মিনালের দিকে রওনা হয়। 
তাছাড়া সরকারী নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা না মেনে লঞ্চ মালিক বা অন্যান্য কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনের বেশি যাত্রী নেন। এছাড়া মাস্টার বা সুকানি হেলপার দিয়ে তাদের লঞ্চ চালানোয় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সার্ভে সনদ অনুযায়ী যাদের লঞ্চ পরিচালনার কথা ছিল তারা লঞ্চে ছিলেন না। 

আসামি আবুল বাশার, জাকির, নাসির, শিপন, শাকিল, হৃদয়ের দিক-নির্দেশনায় এবং লঞ্চ চলমান থাকা অবস্থায় তাদের নির্দেশনা ভুল থাকায় লঞ্চের গতি ছিল অনেক বেশি। যেখানে গতি ধীর হওয়ার কথা সেখানে ফ্রন্ট গিয়ারে রেখে দ্রুত ও বেপরোয়াভাবে লঞ্চের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়া হয়। এটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। 

অপরদিকে লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, সুপারভাইজার আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও সালামরা ময়ূর কোম্পানির সার্বিক পরিচালনাকারী। তাদের ভুল দিক-নির্দেশনা এবং পরিচালনাকারীর জন্যই এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ৩৪ জন নিরীহ মানুষের জীবন চলে যায়।

চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী লঞ্চ মর্নিং বার্ডের মাস্টার সুকানিরা বারবার সংকেত দেয়ার পরও ঘাতক লঞ্চ চালনাকারী এজহারনামীয় আসামিরা দ্রুত ঘাটে যাওয়ার আশায় অতিক্রম করার চেষ্টা করে। যার কারণে মর্নিং বার্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং চোখের পলকেই লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়।

এ মামলায় আসামিদের মধ্যে লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ, লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও আবদুস সালাম জামিনে রয়েছেন। এছাড়া লঞ্চের ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয় কারাগারে আছেন। 

গত বছরের ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ। সদরঘাটে পৌঁছানোর আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার পরদিন ৩০ জুন সদরঘাট নৌ পুলিশের এসআই শামসুল আলম বাদী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

মামলায় দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়া সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় বেপরোয়া লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ