সেই নেহার জামিন মেলেনি

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণ-হত্যা

সেই নেহার জামিন মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১১ ৭ মার্চ ২০২১  

ফারজানা জামান নেহা- ফাইল ছবি

ফারজানা জামান নেহা- ফাইল ছবি

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বান্ধবী ফারজানা জামান নেহার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে নেহার পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত এ মামলায় বান্ধবী ফারজানা জামান নেহার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আজিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আসামি আরাফাতের বাসায় যান। আরাফাতের বাসায় স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই তরুণী ও রায়হান একসঙ্গে উবারে করে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আসামি নেহা এবং একজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে ‘অধিক মাত্রায়’ মদপান করান। মদ্যপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তরুণীকে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন রায়হান। এ সময় রায়হানের বন্ধুরাও রুমে ছিল।

ধর্ষণের পর রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেন। সেই বন্ধু পরদিন এসে ওই তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুইদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ৩০ জানুয়ারি  তরুণী মারা যান।

ওইদিন রাজধানীর মোহাম্মদ পুর থানায় নিহত তরুণীর বাবা বাদী হয়ে চার জনসহ অজ্ঞাত আরো একজনের নামে মামলা করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি একদিনের রিমান্ড শেষে আসামি শাফায়াত জামিলের কারাগারে আটক রয়েছে। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাফায়াত জামিল (২২)। সেদিন আদালতে হলফনামা দিয়ে মামলায় সম্পৃক্ততার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শাফায়াত। এরপর বিচারক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামি মুর্তুজা রায়হান চৌধুরী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তারপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৩১ জানুয়ারি আদালত এ মামলায় মুর্তুজা রায়হান ও তাফসীরের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শেষে নুহাত আলম তাফসীরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ