শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৯:৩৭ ৩ মার্চ ২০২১

হাইকোর্টের ফাইল ফটো

হাইকোর্টের ফাইল ফটো

আটকের তিনদিন পর বরিশালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের হাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, আইনে যেহেতু সুযোগ আছে সেহেতু আবেদনকারী সেই সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হলো।

এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির। অন্যদিকে রাষ্টপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে আটকের তিনদিন পর বরিশালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের হাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ এর (ক) ধারার ক্ষমতাবলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি হত্যা মামলা করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতে রেজাউলের বাবা ইউনুস মুনশি মামলাটি করেন। মামলায় নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া আরো দুজনকে আসামি করা হলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হামিদ খান সড়কের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে রেজাউল করিমকে আটক করেন এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ। রেজাউলের কাছে মহিউদ্দিন দুজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম জানতে চান। রেজাউল কিছু জানেন না বললে তার পকেটে হাত দিয়ে নেশাজাতীয় ইনজেকশন পাওয়ার দাবি করে তাকে আটক করে নিয়ে যান। এরপর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে আহত রেজাউলকে থানার মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২ জানুয়ারি রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের কারণেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ তোলা হয়।

এদিকে মামলা দায়েরের পর মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/জেডআর