জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৯ ১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৬:১০ ১ মার্চ ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চিকিৎসকের অবহেলায় নাসরিন আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ও হাসপাতালটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত সময় পিছিয়ে আগামী ২০ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।

আজ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় এ দিন ধার্য করা হয়। 

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নাসরিন আক্তারের স্বামী এস এ আলম সবুজ বাদী মামলার আবেদন করেন। এরপর গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেন। একই সঙ্গে পিবিআই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ২১ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ডা. নাসরিন, ডা. শওকত আলী আরমান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. দেলোয়ার হোসেন এবং সেবিকা শংকরী রানী সরকার।

মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, এস এ আলম সবুজের স্ত্রী নাসরিন আক্তার গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক অবস্থায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের ধারণা ছিল, সেখানে ভালো চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু তারা সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারো কাছে সেবাটুকু পাননি। নাসরিন আক্তারের প্রসব বেদনাকালীন সময়ে স্বামী সবুজ বারবার শংকরী রাণীকে ডাক্তার ডাকার জন্য বললেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। উল্টো সবুজতে শাষাতে থাকেন। বলতে থাকেন, রোগীর সুস্থ করার জন্য তিনিই যথেষ্ট। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে শংকরী রাণীকে ডাক্তার ডাকার অনুরোধ করেন সবুজ। তখন শংকরী রাণী ইন্টার্নি চিকিৎসক শুভ ও নুপুরকে ডেকে আনেন। 

তারা দুজন এসে জানান, সবকিছু ঠিক আছে। এরপর শংকর রাণী ডা. দেলোয়ার হোসেন ও ডা. নাসরিনকে আসার জন্য ফোন করা হয়েছে বলে জানান। কিন্তু কোনো ডাক্তার আসেনি। ভিকটিম স্যালাইন, ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগের অনুরোধ করলে তারা তা করেনি। শংকরী রাণী স্যালাইন ও ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই ভিকটিমকে জোর করে বাচ্চা প্রসব করায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের একপর্যায়ে ভিকটিম একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পর ডা. শওকত আলী আরমান ও ডা. দেলোয়ার হোসেন আসেন। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের তিনি বলেন, তার হায়াত নেই। আল্লাহ নিয়ে গেছে। আপনারা দ্রুত লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। 

রোগীর মৃত্যুর পেছনে তাদের কিছুট অবহেলা আছে বলে স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে বাদী পক্ষকে পাত্তা দেয় না। আসামিরা বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে না, পারলে মামলা করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর বাদী ধানমন্ডি থানায় যান মামলা করতে। থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর