বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ মৃত্যু: ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ মৃত্যু: ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৮ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১০:১৪ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবিতে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের এসআই শহিদুল আলম। আগামী ৯ মার্চ মামলাটির পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রের অপর আসামিরা হলেন- লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন, আবদুস সালাম, ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয়।

মামলার অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, লঞ্চ মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ কিছু কমোড ও মালামাল নামানোর জন্য ময়ূর কোম্পানির ম্যানেজার, সুপারভাইজার, মালিক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা মাস্টার, সুকানি, ড্রাইভার ও গ্রিজারদের নির্দেশ দেন। যার কারণে ঘাতক লঞ্চের মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানি, গ্রিজাররা দ্রুত মালামাল সরবরাহের জন্য বোগদাদিয়া ডকইয়াও ছেড়ে টার্মিনালের দিকে রওনা হয়। তাছাড়া সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে লঞ্চ মালিক বা অন্যান্য কর্মকতারা যথেষ্ট পরিমাণ লোকজন নেন। এছাড়া মাস্টার বা সুকানি হেলপার দিয়ে তাদের লঞ্চ চালানোর দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। 

সার্ভে সনদ অনুযায়ী, যাদের লঞ্চ পরিচালনার কথা ছিল তারা লঞ্চে ছিল না। আসামি আবুল বাশার, জাকির, নাসির, শিপন, শাকিল, হৃদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং লঞ্চ চলমান থাকা অবস্থায় তাদের নির্দেশনা ভুল থাকায় লঞ্চের গতি ছিল অনেক বেশি। যেখানে গতি ধীর হওয়ার কথা সেখানে ফ্রন্ট গিয়ারে রেখে দ্রুত ও বেপরোয়াভাবে লঞ্চের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়া হয়। এটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

অপরদিকে লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, সুপারভাইজার আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও সালামরা ময়ূর কোম্পানির সার্বিক পরিচালনাকারী। তাদের ভুল দিকনির্দেশনায় এবং পরিচালনাকারীর জন্যই এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ৩৪ জন নিরীহ মানুষের জীবন চলে যায়। 

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী লঞ্চ মনিং বার্ডের মাস্টার সুকানীরা বারবার সংকেত দেয়ার পরও ঘাতক লঞ্চ চালনাকারী এজহারনামীয় আসামিরা দ্রুত ঘাটে যাওয়ার আশায় অতিক্রম করার চেষ্টা করে। যার কারণে মনিং বার্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং চোখের পলকেই লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়।

এ মামলায় আসামিদের মধ্যে লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ, লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও আবদুস সালাম জামিনে রয়েছেন। এছাড়া লঞ্চের ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয় কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৯ জুন মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ। ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছানোর আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় সেটি। দুর্ঘটনায় মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার পরদিন ৩০ জুন সদরঘাট নৌ পুলিশের এসআই শামসুল আলম বাদী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় বেপরোয়া লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার অভিযোগ আনা হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ