নিরপরাধ কামরুলের সাজা বাতিল, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

এসএসসি পরীক্ষার সনদ জালিয়াতি

নিরপরাধ কামরুলের সাজা বাতিল, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৫ ২৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:৫৬ ২৮ জানুয়ারি ২০২১

হাইকোর্টের ফাইল ছবি

হাইকোর্টের ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির ঘটনায় নোয়াখালীতে নামের মিল থাকায় ১৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত নিরপরাধ কামরুল ইসলামের সাজা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা (রিকল) প্রত্যাহার করে মামলা পুনরায় তদন্ত করতে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। এদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। তবে কাকতালীয়ভাবে বাবা ও ছেলের নামে মিল থাকায় তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী নোয়াখালী সদরের পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামের কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে। 

মামলার সূত্র জানা যায়, ১৯৯৮ সালের এসএসসির সনদ জালিয়াতি করে এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিলেন এক যুবক। এমন অভিযোগ এনে ২০০৩ সালের মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। তদন্ত শেষে দশ বছর পরে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে মামলার বিচার শেষে আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তিনটি ধারায় ৫ বছর করে ১৫ বছরের সাজা দেন বিচারিক আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেন আদালত।

রায়ে বলা হয়, সকল কারাদণ্ড একত্রে চলবে, কিন্তু অর্থদণ্ড পৃথক-পৃথকভাবে দিতে হবে। অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ রায়ের পরে পুলিশি তৎপরতা দেখে নোয়াখালী সদরের পূর্ব রাজারামপুরের মো. আবুল খায়েরের ছেলে মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রিট করেন। এ রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর রুল জারি করেন এবং দুদকের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রুলের জবাব দিতে গিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি দুদক ভুল স্বীকার করে। দুদকের পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করে বলা হয়- ‘সরল বিশ্বাসের ভুল (বোনাফাইড মিসটেক)’।

রিট আবেদনে ভুক্তভোগী বলেন, আমার জন্ম ১৯৯০ সালে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কলেজে কোনোদিন ভর্তিও হইনি। এরপর ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

রিটের নথি থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালের সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রসিকিউটিং পরিদর্শক মো.শহীদুল আলম একটি এজাহার (এফআইআর) দায়ের করেন। 

ওই এজাহারে বলা হয়, নোয়াখালী সদর থানার পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে কামরুল ইসলাম নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৭৬ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাশের ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র সৃজন বা সংগ্রহ করে ১৯৮৯-৯০ সেশনে মাইজদী পাবলিক কলেজে ভর্তি হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ