ব্লগার দীপন হত্যা মামলার রায় ১০ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

ব্লগার দীপন হত্যা মামলার রায় ১০ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৩ ২৪ জানুয়ারি ২০২১  

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার আসামিরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার আসামিরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার রায়ের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে কারাগারে আটক আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। 

এর আগে ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার জাকির আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রত্যাশা করেন।

তারও আগে ৪ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনে কারাগারে আটক ছয় আসামি আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এদিন আসামি খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসানের পক্ষে সাফাই সাক্ষীর জন্য আবেদন করা হয়। এরপর আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১১ জানুয়ারি সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন মামলার আসামি খাইরুল ইসলাম নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেন।

এ মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওইদিনই তার স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতে ডিবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আব্দুল্লাহ।

এ মামলার মোট আট আসামির মধ্যে ছয় কারাগারে আটক রয়েছে। কারাগারে আটক প্রত্যেক আসামি আদালতে কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তি দেন। এছাড়া অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছে। গত বছর ৮ জানুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৯ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত পলাতক দুই আসামি জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীপনকে হত্যার নির্দেশদাতা, মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ছিলেন পলাতক সৈয়দ জিয়াউল হক। আসামি খাইরুল, আবদুস সবুর ও মইনুলকে তিনি হত্যাকাণ্ডের আগে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ